বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদেরও গায়ে স্প্রে, মুখ বন্ধ স্বস্তিকা-শুভশ্রীর

12210
বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদেরও গায়ে স্প্রে, মুখ বন্ধ স্বস্তিকা-শুভশ্রীর
বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদেরও গায়ে স্প্রে, মুখ বন্ধ স্বস্তিকা-শুভশ্রীর

উত্তরপ্রদেশের পর বাংলা। রাজাস্থানের আজমেড় থেকে ফেরার পরেই; ট্রেন থেকে নামার পরে বাসে ওঠার আগেই; এক বালিকা-সহ কয়েকজন যাত্রীদের গায়ে; তা যন্ত্রের মাধ্যমে স্প্রে করা হয়। উত্তরপ্রদেশেও এই একই ঘটনা ঘটেছিল। তখন টুইট করে এর প্রতিবাদ করেছিলেন; বাংলার দুই অভিনেত্রী শুভশ্রী ও স্বস্তিকা। এবার, ভিন রাজ্য ফেরত বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদেরও গায়ে স্প্রেকরা হল; তবে এবার মুখ বন্ধ স্বস্তিকা-শুভশ্রীর। একই ঘটনায় দুই রকম অবস্থান কেন? প্রশ্ন আমজনতার।

যোগীর রাজ্যে হলে প্রতিবাদ! আর মমতার রাজ্যে হলেই মুখ বন্ধ!

মঙ্গলবার, আজমেড় ফেরত ট্রেন থেকে নামার পরে; যাত্রীদের হাতে স্যানিটাইজ়ার দেওয়া ছাড়াও; এক বালিকা-সহ কয়েকজন শ্রমিকের গায়ে; তা যন্ত্রের মাধ্যমে স্প্রে করা হয়। এই কাজ কতটা বিধিসম্মত; তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অ্যালকোহলযুক্ত স্যানিটাইজ়ার কনুই পর্যন্ত; ব্যবহার করা যেতে পারে। কিন্তু শরীরে স্প্রে করা কোনও ক্ষেত্রেই ভাল নয়। তা চামড়ার পক্ষে ক্ষতিকর। ওই ভাবে স্যানিটাইজ়ার ব্যবহারের অনুমতিও নেই।

তা হলে কারা করল স্প্রে? ডানকুনির উপ-পুরপ্রধান দেবাশিস মুখোপাধ্যায় জানান; “পুরসভার তরফেই স্প্রে করা হয়। হ্যান্ড স্যানিটাইজ়ার মানুষের শরীরে; ক্ষতিকারক নয় বলেই জানি। তাই স্প্রে করা হয়”। হুগলীর জেলাশাসক, ওয়াই রত্নাকর রাও অবশ্য বলেন; “হ্যান্ড স্যানিটাইজ়ার তো; হাতে দেওয়ার কথাই বলা হয়েছিল। কেন শরীরে স্প্রে করা হল খোঁজ নিয়ে দেখব”।

উত্তরপ্রদেশেরও একটি ভিডিয়োকে কেন্দ্র করে; বিতর্ক শুরু হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। দেখা যায়, উত্তরপ্রদেশের বরেলিতে ভিনরাজ্য থেকে আসা শ্রমিকদের; রাস্তায় বসিয়ে জীবাণুনাশক স্প্রে করা হচ্ছে। যদিও এই ঘটনা প্রসঙ্গে, বরেলির মেডিক্যাল অফিসার আশুতোষ পরাশরি বলেছিলেন; “ওই শ্রমিকদের উপর হাইপোক্লোরাইট মিশ্রণ; স্প্রে করা হয়েছে। এটা তেমন ক্ষতিকর নয়। জীবাণুনাশক হিসাবে ব্যবহার সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইট”। তাতেও সমালোচনা বন্ধ হয় নি।

যোগীর রাজ্যে হলে প্রতিবাদ! আর মমতার রাজ্যে হলেই মুখ বন্ধ!

এই বিষয়টি নিয়েই মুখ খোলেন; টলিউড অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় ও শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়। সেই ভিডিয়ো দেখে গর্জে ওঠেন; শুভশ্রী ও স্বস্তিকা। শুভশ্রী সেই ভিডিয়োটি ট্যুইট করে লেখেন; “এরা মানুষ? এভাবে করোনা ভাইরাসের মোকাবিলা সম্ভব? দয়া করে অমানুষের মত কাজ না করে; এবার একটু মনুষ্যত্বের পরিচয় দিন”। একই কথা বলেন স্বস্তিকাও। তিনি বললেন; “গরিবদের জন্য কোথাও কোনওরকম ব্যবস্থা নেই। তা সত্বেও কিছু মানুষ; উত্তরপ্রদেশ সরকারের প্রশংসা করে যাচ্ছেন। কিসের জন্য'”?

তবে ডানকুনি স্টেশনের ছবি দেখে; কোন টুইট নেই স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় ও শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায় এর। চুপ বাংলার বুদ্ধিজীবীরা; যারা সেই সময় প্রতিবাদে মুখর হয়েছিলেন। একই বিষয়ে দুই রকম অবস্থান কেন? প্রশ্ন করেছেন বাংলার আমজনতা। যোগীর রাজ্যে হলে প্রতিবাদ! আর মমতার রাজ্যে হলেই মুখ বন্ধ? কেন? তাহলে প্রতিবাদের নামে লোক হাসানোর কি দরকার? শুধুই কি মমতার কাছে নম্বর বাড়ানোর জন্য? প্রশ্ন আমজনতার।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন