বেছে বেছে মারতেন হিন্দুদের, ভারতে হিন্দু মুসলমান সম্পর্কের অবনতিতে দায়ী তৈমুর

6756
বেছে বেছে মারতেন হিন্দুদের, ভারতে হিন্দু মুসলমান সম্পর্কের অবনতিতে দায়ী তৈমুর
বেছে বেছে মারতেন হিন্দুদের, ভারতে হিন্দু মুসলমান সম্পর্কের অবনতিতে দায়ী তৈমুর

বেছে বেছে মারতেন হিন্দুদের; ভারতে হিন্দু মুসলমান সম্পর্কের অবনতিতে দায়ী তৈমুর। ভারতে হিন্দু মুসলমান সম্পর্কের অবনতিতে; তৈমুরের ভূমিকা নিয়ে ইতিহাসবিদদের নানান তথ্য পাওয়া যায়। যেসব বইয়েতে স্পষ্ট, তৈমুরের ভারত আক্রমণের পর থেকেই; ভারতে হিন্দু মুসলমান সম্পর্কের অবনতি হতে শুরু হয়েছিল। সমরখন্দের সিংহাসনে বসেই, হিন্দুস্থান জয়ের; পরিকল্পনা করেন তৈমুর লঙ্। ১৩৯৮ খ্রিস্টাব্দে সিন্ধু নদ পেরিয়ে; হিন্দুস্থান আক্রমণ করেন তৈমুর। তৈমুরের আক্রমণের হাত থেকে, যারা পালাতে পারে নি; তাদের সবাইকে হত্যা বা বন্দি করেন। দিল্লির সুলতান মামুদ তুঘলককে; পরাজিত করে দিল্লির দখল নেন। ঠাণ্ডা মাথায় নির্বিচারে; ১ লক্ষ বন্দিকে হত্যা করেন। দিল্লি শহর লুঠ করে; লক্ষ নারী ও ক্রীতদাস নিয়ে ফিরে যান সমরখন্দে।

তৈমুরকে যথাসাধ্য বাধা দিয়েছিলেন; দিল্লির সুলতান মামুদ শা তুঘলক; কিন্তু সে বাধা টেকেনি। তৈমুরের আদেশে, দুর্ধর্ষ তুর্কি সেনাবাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়ে; নির্বিচারে হিন্দু গণহত্যা চালায়। হিন্দুরা পরিবারের সম্মান রাখতে; নিজেরাই নিজেদের ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। আর তাতে জীবন্ত পুড়ে মরে; তাদের স্ত্রী-পুত্র-কন‍্যারা। তৈমুরের তুর্কি বাহিনীকে বাধা দিয়ে; অসম লড়াইয়ে প্রান হারায় বহু হিন্দু।

আরও পড়ুনঃ ইতিহাসে পড়ানো হয় না, আফগানদের পরাজিত করে ভারত ভূমি রক্ষা করেছিলেন নাগা সন্ন্যাসীরা

দিল্লির রাজপথ; রাঙা হয়ে ওঠে রক্তে। রাস্তার ধারে শুধুই; মৃতদেহের স্তূপ। ৩ দিন ধরে দিল্লিতে চলল; দেড় লক্ষ তুর্কি সৈন‍্যের তৈমুরী তাণ্ডব। চললো খুন, লুঠপাট; বাড়িতে আগুন লাগানো। প্রত‍্যেক তুর্কি সৈন্য ৫০ থেকে ১০০ জনকে; ধরে নিয়ে এল। তবে তৈমুরের নির্দেশে নিহত হয় নি; কোন মুসলমান, তাদের ঘরবাড়িও লুঠ হয় নি। সৈয়দ, উলেমা ও অন্যান্য মুসলিমদের ঘরবাড়ি বাদে; গোটা শহরটাই হয়ে গেল ধ্বংসস্তূপ।

তৈমুরের আত্মজীবনীতে; উপরের কথাগুলি বলছেন তিনি নিজেই। তৈমুর তাঁর আত্মজীবনীতে লিখেছিলেন; “১৫ দিন দিল্লিতে ছিলাম; সুখে-আনন্দেই দিন কাটছিল। দরবার বসিয়েছি; বড় বড় ভোজের আয়োজন করেছি। তারপরেই মনে পড়ল; কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতেই তো হিন্দুস্থানে এসেছি। হত্যা করেছি লক্ষ লক্ষ কাফেরকে; তাদের টাটকা রক্তে পবিত্র তরবারি। এখন তাই আরাম করার সময় নয়; বরং কাফেরদের বিরুদ্ধে লাগাতার যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়াই উচিত”। তাই ফের অভিযান; শুরু করলেন তৈমুর।

আরও পড়ুনঃ মহারাজের গোপন অভিসারে ভারতের মানচিত্র বদলে, রাজপুতানা চলে যাচ্ছিল পাকিস্তানে

এরপর তৈমুরের লক্ষ হরিদ্বার; হরিদ্বারে তখন পুণ‍্যস্নান চলছে। লক্ষ লক্ষ পুণ‍্যার্থী হাজির হয়েছেন গঙ্গা তীরে; বেশির ভাগই বৃদ্ধ-বৃদ্ধা। নিরস্ত্র তীর্থযাত্রীদের ওপর; ঝাঁপিয়ে পড়ল তৈমুরের তুর্কি বাহিনী। অনেকেই আশ্রয় নিল পাহাড়ে; সেখানেও আক্রমণ চালাল তৈমুর বাহিনী। পাহাড় থেকে রক্তের ধারা নেমে এল সমতলভূমিতে; লাল হয়ে উঠল গঙ্গার জল। ড: প্রতুল চন্দ্র গুপ্ত ও ড: সম্বুদ্ধ চক্রবর্তী, ভারতবর্ষের ইতিহাস বইয়েতে লিখেছেন; “একে একে দিল্লির পর মীরাট; হরিদ্বার ও জম্মুতে নৃশংস অভিযান চালায় তৈমুর বাহিনী।

তৈমুরলঙের ভারতবর্ষ আক্রমণের ফলে; হিন্দু ও মুসলমানের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব আরও বৃদ্ধি পেয়েছিল। দুই জাতির মধ্যে বিদ্বেষ; স্থায়ীরূপ লাভ করেছিল। তৈমুরের আক্রমণের ফলে মুসলমানদের ভয়ে; হিন্দুরা তাদের মেয়েদের অল্প বয়সে বিবাহ দিতে শুরু করেছিল”। এরপরেই ভারতে, হিন্দু মুসলমান সম্পর্ক; একেবারেই নষ্ট হয়ে যায়।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন