তালিবান ও মার্কিন অস্ত্র, ভারতকে হাতে না মেরে ভাতে মারল আমেরিকা

1532
তালিবান ও মার্কিন অস্ত্র, ভারতকে হাতে না মেরে ভাতে মারল আমেরিকা
তালিবান ও মার্কিন অস্ত্র, ভারতকে হাতে না মেরে ভাতে মারল আমেরিকা

লক্ষ লক্ষ অস্ত্র, যুদ্ধের গাড়ি, হেলিকপ্টার, বিমান; তালিবানের হাতে ছেড়ে এসেছে আমেরিকা। কিন্তু কেন? এই প্রশ্নটাই এখন ভেবে চলেছে; আন্তর্জাতিক দুনিয়া। মার্কিন কংগ্রেসের সদস্য জিম ব্যাঙ্কের দাবি; প্রায় ৮ হাজার ৩০০ কোটি ডলারের অস্ত্র; আফগানিস্তানে ফেলে এসেছে আমেরিকা। এসবই এখন; দখল করেছে তালিবান। ব্যাঙ্কের কথায়, বাইডেন প্রশাসনের; গাফিলতির জন্যই এসব ঘটেছে। কিন্তু সত্যি কি গাফিলতি? না কি এর পিছনে র‍য়ে গেছে; আমেরিকার অন্য পরিকল্পনা? তালিবান ও মার্কিন অস্ত্র, ভারতকে হাতে না মেরে; ভাতে মারল আমেরিকা। ধন্য তুমি আমেরিকা।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষিতে আমেরিকা; কতটা ভারতের বিশ্বস্ত বন্ধু? প্রশ্নটা উঠছে, উঠবে; কারণ বিষয়টা এখন যথেষ্ট প্রাসঙ্গিক। আমেরিকার বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার, যুদ্ধের গাড়ি; এখন তালিবানের দখলে। পৃথিবীর ৮৫ শতাংশের বেশি দেশের হাতে, যে সংখ্যায় বিশেষ ব্লাক হক হেলিকপ্টার আছে; তার থেকে বেশি এখন আছে তালিবানের হাতে। এক অস্ত্র বিশেষজ্ঞ বললেন, এই বেশিরভাগ অস্ত্রই; তালিবানরা ব্যবহার করতে পারে না। হাতে এন ৪, একে ৪৭ নিয়ে; রাস্তায় ঘুরছে তারা। ভবিষ্যতে বিঘ্নিত হবে শান্তি, শুধু আফগানিস্তানে নয়; গোটা দক্ষিণ এশিয়াতেই, বিশেষ করে ভারতে।

আরও পড়ুন; ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বাসঘাতকতা, আমেরিকাকে সাহায্য করা আফগান নাগরিকদের যাবতীয় তথ্য তালিবানের হাতে

আফগানিস্তানের মাটিকে বিদায় জানানোর আগে; আমেরিকা ৮৩০০ কোটি ডলারেরও বেশি মূল্যের অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র; আফগানিস্তানের মাটিতে রেখে এসেছে। একটি সম্পূর্ণ পেশাদার সেনাদল, যারা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে ক্রমাগত পৃথিবী জুড়ে; কোথাও না কোথাও, যুদ্ধরত অবস্থায় আছে; সেইরকম একটি সেনাদল সম্পূর্ণ অপেশাদার ভঙ্গিতে এত বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র; জঙ্গিদের হাতে ছেড়ে চলে গেল? এটা কি সত্যিই হঠকারী সিদ্ধান্ত; না চুক্তির শর্ত?

এত বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র; রেখে যাওয়ার কারণ কি? তালিবানের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা? একদমই না। যারা ডিফেন্স নিয়ে একটু পড়াশোনা করেন, খোঁজ-খবর রাখেন; তারা নিশ্চয়ই খেয়াল রেখেছেন, কিছুদিন আগেই পাকিস্তানের ডিজি আইএসপিআর মিলিটারি বলেছে; তারা তালিবানকে প্রশিক্ষণ দিতে ইচ্ছুক। পাকিস্তানের বর্তমান যা অর্থনৈতিক দশা; তাতে বিমানের একটা টায়ার কেনার পয়সা তাদের নেই। তালিবানের সঙ্গে পাকিস্তানের ভালো সম্পর্ক; ভারতের কপালে অবশ্যই চিন্তার ভাঁজ গভীরতর করেছে।

আরও পড়ুন; ভারতের মিলিটারি অ্যাকাডেমিতে ট্রেনিং নেওয়া ‘শেরু’, এখন তালিবানি শীর্ষ নেতা

এই বিপুল অস্ত্র ভান্ডার নিঃসন্দেহে; তালিবানের হাত ঘুরে পাকিস্তানের হাতে যাবে। আর পাকিস্তান তা অবশ্যই; ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহার করবে। এই উন্নত টেকনোলজির অস্ত্রশস্ত্রকে, কাউন্টার করতে হলে; ভারতকেও অবশ্যই আমেরিকার উপর নির্ভরতা বাড়াতে হবে। আর আমেরিকাও ঠিক সেটাই চায়; যাতে ভারত আমেরিকার উপর নির্ভরশীল থাকে। আত্মনির্ভরশীল ভারত যাতে, কোনরকমেই আমেরিকা নির্ভরতা কাটাতে না পারে; তার পুরো ব্যবস্থা করে এসেছে আমেরিকা।

আমেরিকা রাশিয়া থেকে, এস-ফোর হান্ড্রেড কেনার ব্যাপারে; ভারতকে প্রতিহত করতে পারেনি। মোদীর ভারত দৃঢ় প্রতিজ্ঞ; এই মিসাইল টেকনোলজি কিনবে। ভারতকে ব্যান করেও কোন লাভ নেই; আমেরিকা সেটা জানে। কারণ,ভারতের নিজের দেশেই; নিজস্ব একটা বিশাল বাজার আছে। পরমাণু বোমা পরীক্ষার পর আমেরিকা, যে ব্যান ভারতের উপর চাপিয়ে ছিল; তাতে আমেরিকার নিজেরই প্রচুর অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছিল।

আরও পড়ুন; তালিবানকে অভিনন্দন জানাল আল কায়দা, এবার ‘পুরো কাশ্মীর’ দখল নেবার ডাক

ভারতের সুবিশাল সামরিক বাজার; সেই সুযোগে রাশিয়ার পাশাপাশি ফ্রান্স এবং ইজরায়েল দখল করেছিল। আমেরিকার সুযোগ হাতছাড়া হয়েছিল; তাই এইবার আমেরিকা ভারতের উপর আর ব্যান চাপায় নি। তাই, ভারতকে এবার নিশ্চিতভাবে হাতে না মেরে; ভাতে মারলো আমেরিকা।

আমেরিকান টেকনোলজিকে কাউন্টার করতে; এখন ভারতকে আমেরিকারই মুখাপেক্ষী থাকতে হবে। সেই সুযোগে আমেরিকা প্রচুর টাকায়; ভারতকে তার অস্ত্রশস্ত্র এবং টেকনোলজি বিক্রি করবে। এই জন্যই বোধহয় এত বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র; আফগানিস্তানের মাটিতে ছেড়ে আসা। বোকামো নয়, বাইডেন প্রশাসনের নির্দেশেই; এই কাজ সুন্দর ভাবে করে এসেছে আমেরিকার সেনা।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন