শিক্ষিকাকে মাদ্রাসা থেকে গার্লস স্কুলে বদলি, শিক্ষা দফতরের গালে থাপ্পড় হাইকোর্টের

1129
শিক্ষিকাকে মাদ্রাসা থেকে গার্লস স্কুলে বদলি, শিক্ষা দফতরের গালে থাপ্পড় হাইকোর্টের/The News বাংলা

শিক্ষিকাকে মাদ্রাসা থেকে গার্লস স্কুলে বদলি, শিক্ষা দফতরের গালে থাপ্পড় হাইকোর্টের । আজ প্রেম দিবস। ভ্যালেন্টাইনস ডের মানেটা ভিন্ন মানুষের কাছে ভিন্ন রকম; ভিন্ন স্বাদের। বিশেষ এই দিনে ভালবাসার মিলন ঘটল। মুছে গেল; দূরত্ব। গার্গী রায় আজ স্বামীর সঙ্গে সুখী ঘরনী। আর এই চারহাত এক হল; কলকাতা হাইকোর্টের মান্যতায়। মা হওয়ার অদম্য ইচ্ছা কে মান্যতা দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বিয়ে হয়েছে ন বছর; কিন্তু চাকরীর জন্য আলাদা হয়ে গিয়েছিলেন দম্পতি। আলাদা থাকতে বাধ্য হয়েছিলেন। যে কারণে বিয়ের এতদিন পরেও মা ডাক শোনা হয়নি। কিন্তু এবার মা হওয়ার অদম্য ইচ্ছাকে মান্যতা দিল কলকাতা হাইকোর্ট। স্বামী স্ত্রী একসাথে মিলিয়ে দিলেন কলকাতা হাইকোর্ট। চাকরি ছিল মাদ্রাসা স্কুলে; হাইকোর্টের নির্দেশে চাকরি পেলেন হাই স্কুলে। পৃথিবীতে এমন কোন মহিলা নেই; যিনি মা ডাক শুনতে চান না। বলাবাহুল্য সেই সুযোগ থাকা সত্ত্বেও স্কুল শিক্ষা দফতরের অনুমতি না মেলায়; তা হয়ে উঠছিল না।

কিন্তু আদালতের নির্দেশের কাছে শিক্ষা দফতরের ইচ্ছে ধোপে টেকেনি। মুর্শিদাবাদ বেলডাঙ্গা মাদ্রাসা স্কুলে সহ শিক্ষিকা হিসেবে ২০০৩ সালে; চাকরীতে যোগদান করেন গার্গী রায়। ২০১০ সালে আলিপুরদুয়ারের  বাসিন্দা স্কুল শিক্ষক গিরিন্দ্রনাথ বর্মনের সাথে বিয়ে হয় তাঁর। সে বছরই  রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দফতরের কাছে ;বদলি চেয়ে আবেদন করেন। কোচবিহার থেকে মুর্শিদাবাদ এর দূরত্ব ৬৫০ কিলোমিটার। তাই স্কুল করে বাড়ি ফেরা সম্ভবত হ’ত না। ওই ভাবেই বিয়ের পর থেকেই; দীর্ঘ নয় বছর গার্গী দেবীর সাথে তার স্বামীর সেই অর্থে একসাথে থাকা হতো না। গার্গী দেবীর স্বামী আলিপুরদুয়ারের একটি স্কুলে শিক্ষকতা করেন।তিনিও ছুটির অভাবে মুর্শিদাবাদে স্ত্রীর কাছে এসে থাকতে পারতেন না বলে; আদালতে জানান।স্বাভাবিকভাবেই; দুজনের সাথে দুজনের যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্নই হয়ে গিয়েছিল।

স্কুল শিক্ষিকা নিজের জেলায় বদলি চেয়ে; গত পাঁচ বছর ধরে লাগাতার একের পর; এক আবেদন জানান রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দফতরে। স্বামী স্ত্রী দুজনেই ভিন্ন জেলায় থাকেন এবং সেই কারণেই তাদের কোনও রকম সন্তান হয়নি। গার্গী দেবী একাধিক স্ত্রী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে; পরামর্শ করেছেন যাতে করে তিনি মা হতে পারেন।কিন্তু চিকিৎসকরা জানিয়েছেন; স্বামী স্ত্রীকে একসাথে থাকতে হবে এবং তাঁদের দুজনকে একসাথে চিকিৎসা করাতে হবে। দিনের-পর-দিন ওভাবেই স্বামীর সাথে আলাদা থাকা এবং সন্তান না হওয়ায় মানসিক অবসাদে ভুগতে শুরু করেন গার্গী দেবী। নিরুপায় হয়ে ২০১৯ সালে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন; ওই শিক্ষিকা।বুধবার হাই কোর্টের নির্দেশে গার্গী দেবীকে মাদ্রাসা স্কুলের বদলে তুফানগঞ্জের ইলা দেবী গার্লস হাই স্কুল বদলির অনুমোদন দেন স্কুল শিক্ষা দফতর। আজ প্রেমদিবসে অন্যরকম ভালবাসার মিলন দেখল রাজ্য।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন