মমতার উপাচার্যকে শোকজ করলেন রাজ্যপাল

2102
মমতার উপাচার্যকে শোকজ করলেন রাজ্যপাল/The News বাংলা

মমতার উপাচার্যকে শোকজ করলেন রাজ্যপাল। রাজ্য রাজ্যপাল বিতর্ক আবার শুরু। এবার সমাবর্তন ইস্যুতে রাজ্য ও রাজ্যপাল সংঘাত আরও বাড়ল। কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে কোচবিহারের পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে শো-কজ করলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। আর তারপরেই শুরু জোর বিতর্ক। ফের কি রাজ্য রাজ্যপাল লড়াই শুরু। উঠে গেছে প্রশ্ন।

রাজভবনের তরফে এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে উপাচার্য দেবকুমার মুখোপাধ্যায়কে; শো-কজের নোটিশের বিষয়টি জানানো হয়েছে। শুধু শো-কজ নয়; তাঁকে অপসারণ করার বিষয়েও; ভাবনাচিন্তা চলছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাজভবন সুত্রের খবর, আচার্য জগদীপ ধনখড়ের শোকজ নোটিস রাজভবনের তরফে উপাচার্য দেবকুমার মুখোপাধ্যায় ও উচ্চশিক্ষা দফতরের প্রিন্সিপ্যাল সেক্রেটারি মণীশ জৈনকে পাঠানো হচ্ছে।

জানা গিয়েছে; আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি কোচবিহারের পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সাজ সাজ রব বিশ্ববিদ্যালয়ে। আমন্ত্রণের কাজও প্রায় শেষ। জানা গিয়েছে; আমন্ত্রণপত্রে নাম রয়েছে; শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়; রবীন্দ্রনাথ ঘোষ-সহ একাধিক মন্ত্রীর। তবে তাতে নাম নেই; আচার্য তথা রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের।

নিয়মানুযায়ী, কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনের আগে আচার্য তথা রাজ্যপালের সম্মতি নিতে হয়। তবে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠান করা সম্ভব। এমনকী, আচার্যের উপস্থিতি ছাড়া সমাবর্তন কার্যত অসম্ভব। তবে এক্ষেত্রে অনুমতি তো দূরের কথা আমন্ত্রণপত্রেও নেই জগদীপ ধনকড়ের নাম। তাতেই ক্ষুব্ধ আচার্য।

বুধবার সকালে; টুইটে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। টুইটে আচার্য লেখেন; “কোচবিহারের পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তন ১৪ ফেব্রুয়ারি। ওই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত পার্থ চট্টোপাধ্যায়, গৌতম দেব, রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, বিনয়কৃষ্ণ বর্মন। অথচ আচার্য হওয়া সত্ত্বেও; আমি সমাবর্তনের কথা জানিনা। এ আমরা কোথায় আছি?”

যদিও রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়কে আমন্ত্রণ না জানানোর অভিযোগ অস্বীকার করেন উপাচার্য দেবকুমার মুখোপাধ্যায়। তিনি পাল্টা দাবি করেন, “সম্পূর্ণ বিধি মেনে আচার্যকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল নির্দিষ্ট সময়ে। দীর্ঘদিন অপেক্ষা করার পর কোনও উত্তর না আসায়; আমরা বাধ্য হয়েছি তড়িঘড়ি আমন্ত্রণপত্র ছাপাতে। একারণে আমন্ত্রণপত্র ছাপাতেও দেরি হয়েছে। আমাদের তরফ থেকে কোনওরকম খামতি নেই”।

সবমিলিয়ে ফের রাজ্য রাজ্যপাল বিতর্ক সবার সামনে। এই লড়াইয়ের শেষ কোথায়? রাজ্য জুড়ে উঠে গেছে প্রশ্ন। মুখ টিপে হাসছে রাজ্যের শিক্ষা মহল।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন