পৃথিবী এগোলেও তান্ত্রিকের কালো জাদু টোনায় ডুবে আফ্রিকা

2270
Image Source: Google Image

বিশ্বের সেরা জাতীয় ফুটবল দলগুলির সঙ্গে; ঠিক যেমন একদল চিকিৎসক থাকেন; আফ্রিকার দেশগুলির প্রতিটি ফুটবল দলের সঙ্গে ঠিক; তেমনই থাকেন উইচ্ ডক্টর বা তান্ত্রিক। পুরো আফ্রিকান ফুটবলটাকেই; গত পঞ্চাশ বছর ধরে শাসন করে চলেছে এই উইচ্ ডক্টররা। এ এক অদ্ভুত দুনিয়া; অবাক করা গল্প। যেখানে ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত দেশের মানুষ; এই একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও; বিশ্বাস করেন যাদুমন্ত্রে। পৃথিবী এগোলেও; তান্ত্রিকের কালো জাদু টোনায় ডুবে আফ্রিকা পড়ুন তিন খণ্ডের ‘অবিশ্বাস্য সত্যের’ প্রথম পর্ব।

আফ্রিকার আইভরি কোস্ট থেকে শুরু করে; বেনিন; কেনিয়া; নাইজেরিয়া; কঙ্গোই বলুন; আরজাম্বিয়া; উগান্ডা; দক্ষিণ আফ্রিকা; এমন কি রজার মিল্লার দেশ ক্যামেরুনই বলুন; প্রায় নব্বই শতাংশ ফুটবল খেলিয়ে দেশ; ভর করে চলেছে ডাইনি-বিদ্যা বা উইচক্রাফ্টের ওপরে।

এত ভালো ফুটবল খেলা সত্ত্বেও; আফ্রিকান ফুটবলারদের ব্ল্যাক ম্যাজিকের শরণাপন্ন হতে হবে কেন? নাইজেরিয়ার একজন স্থানীয় কোচ মাউরো বাফাংগার মতে; ব্যাপারটা প্রতিযোগিতা আর হিংসা থেকেই আসে। আফ্রিকার অনেক জায়গায় খেলাটাকে; রীতিমত যুদ্ধ হিসাবে বিবেচনা করা হয়।

Image Source: Google Image

ম্যাচ জেতার জন্য ফুটবলাররা; যেকোনও কিছুই করতে পারে। তান্ত্রিকদের কাছে যাওয়ার কারণ এটাই। নিজের পারফরম্যান্সের উন্নতি; বিপক্ষদলের খেলোয়াড়দের ঠিকভাবে খেলতে না দেওয়া; কিংবা ইনজুরিতে ফেলা। কখনও কখনও কোন প্লেয়ারের সাথে; শত্রুতা থাকলে তার ভয়ংকর ক্ষতি করার চেষ্টা; এমনকি মেরে ফেলারও চেষ্টাও খুব স্বাভাবিক এদের কাছে।

বিপক্ষ দলের সেরা প্লেয়ার বা প্রমিজিং প্লেয়াররাই; বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যেটার শিকার হয়। খেলোয়াড়দের জাদু থেকে সুরক্ষা; আর বিপক্ষ দলের উপর এর প্রয়োগ করার জন্যই; তান্ত্রিকদের মোটা অংকের বেতন দিয়ে রাখা হয়; আফ্রিকার স্থানীয় দলগুলোতে। দলের ফুটবলারদের চাইতেও বড় ভরসা এই তান্ত্রিকরা।

তান্ত্রিকদের প্রভাবটা ঠিক কেমন? নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক সাংবাদিককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে; নাইজেরিয়ার এক গোলরক্ষক জানায়; “ব্যাপারটা ভয়ংকর” বিপক্ষ দলের খেলোয়াড় প্রায় ৩০ মিটার দূর থেকে দূর্বল শট নেয়। সেটা আটকানো আমার জন্য; কোনও ব্যাপার ছিলো না। কিন্তু শট নেওয়ার পরপরই আমি দেখি বল নয়; বরং অনেকগুলো সূচালো বর্শা আমার দিকে ছুটে আসছে। জীবন বাঁচানোর জন্য; আমি মাঠ ছেড়ে পালিয়ে যাই ও জ্ঞান হারাই”।

Image Source: Google Image

নাইজেরিয়ার জাতীয় লিগে খেলা এক স্ট্রাইকারও অভিযোগ করে; কিছু কিছু ম্যাচে গোলের সুযোগ আসলেই; তার পা অবশ হয়ে যাচ্ছিলো। কোনওমতেই সেই পা নাড়াতে পারছিলো না।

ব্ল্যাক ম্যাজিক অ্যান্ড ফুটবল প্রবন্ধে; সাংবাদিক ডেনিস ম্যাচিও লেখেন; ২০১৫ সালের আগস্ট মাসে ডায়নামো অবদৌলা ক্লাবের; ২৬ বছর বয়সী স্ট্রাইকার লিপোল্ড এ্যাংগং ওবেন খেলার মাঠেই মারা যায়। এর ঠিক কয়েকদিন পরেই; ওই একই দলের গোলরক্ষক ফার্দিনান্দ বোগ মারা যায় হঠাৎই ।

পোস্টমর্টেমে মৃত্যুর কারণ হিসাবে; “অজানা অসুখ” লেখা হলেও ফুটবলপ্রেমী নাইজেরিয়ানদের বদ্ধমূল ধারণা; লিপোল্ড এবং ফার্দিনান্দের মৃত্যুর কারণ; প্রতিপক্ষ দলের উইচ্ ডক্টর বা ডাক্তার তান্ত্রিক।

১৯৮০ সালে আফ্রিকান নেশনস্ কাপে; সিয়েরা লিওনের মুখোমুখি হয় গাম্বিয়া। গাম্বিয়ার কোচ ছিলেন; ইউরোপ থেকে আগত হোলগার ওবারম্যান। মাঠে প্রবেশ করার সময়ই ঘটে; আজব এক ঘটনা। স্টেডিয়ামের মূল প্রবেশদ্বারের মুখে; সবুজ রঙের কিছু পাউডার দিয়ে আজব কিছু নকশা আঁকা ছিলো।

নকশাগুলো দেখে প্লেয়াররা ভয়ে কাঁপতে থাকে; এবং মাঠে ঢুকতে অস্বীকার করে। কোচকে জানায়, পথটা কালো জাদু করা; আর এর মধ্যে যে পা ফেলবে তার ভয়ংকর ক্ষতি হবে। খেলোয়াড়েরা বিদ্রোহ করে; এবং ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

জাদুতে বিশ্বাস না করা ওবারম্যান; তখন সব প্লেয়ারকে বাসে উঠিয়ে ড্রাইভিং সিটে নিজে বসে; পুরো বাসটাই প্রবেশপথ দিয়ে সজোরে চালিয়ে নেন। শেষপর্যন্ত খেলা শুরুর মাত্র দুই মিনিট আগে; গাম্বিয়া দল মাঠে প্রবেশ করে। জাদু তন্ত্র মন্ত্রের আরও ভয়ানক গল্প পড়তে নজর রাখুন দ্বিতীয় পর্বে।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন