করোনা মহামারীর মধ্যেও বিধিনিষেধ ভেঙে মিছিল তৃণমূল-বিজেপির, কোভিড পজিটিভ দিলীপ ঘোষ

1411
করোনা মহামারীর মধ্যেও বিধিনিষেধ ভেঙে মিছিল তৃণমূল-বিজেপির, করোনা আক্রান্ত দিলীপ ঘোষ
করোনা মহামারীর মধ্যেও বিধিনিষেধ ভেঙে মিছিল তৃণমূল-বিজেপির, করোনা আক্রান্ত দিলীপ ঘোষ

মানব গুহ, কলকাতাঃ করোনা মহামারীর মধ্যেও, বিধিনিষেধ ভেঙে মিছিল তৃণমূল-বিজেপির; এবার করোনা আক্রান্ত দিলীপ ঘোষ নিজেই। বিজেপি রাজ্য সভাপতি; কোভিড পজিটিভ। তাঁকে ভরতি করা হয়েছে; সল্টলেকের একটি হাসপাতালে। হাসপাতাল সূত্রে খবর তাঁর, তাঁর শরীরে জ্বর রয়েছে; ১০২-এর মতো। তবে, অক্সিজেনের পরিমান; স্বাভাবিক রয়েছে। সম্প্রতি বিজেপির নবান্ন অভিযানের পর; একের পর বিজেপি নেতা-কর্মীরা; করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন বলেই খবর। নবান্ন অভিযানের পরই, করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন; আরেক বিজেপি নেতা জয় বন্দ্যোপাধ্যায়। অনেকেরই আশঙ্কা, বিজেপির নবান্ন অভিযান; করোনার ‘সুপার স্প্রেডার’ ইভেন্ট হয়ে দাঁড়াতে পারে।

আরও পড়ুনঃ বাংলার বাড়ছে করোনা পজিটিভ রেট, ঘুম উড়েছে স্বাস্থ্য কর্তাদের, পুজো উদ্বোধনে মুখ্যমন্ত্রী

এ বার করোনার হানা রাজ্য বিজেপির শীর্ষ স্তরে। সংক্রামিত হলেন; দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। শুক্রবার সন্ধ্যায় তাঁকে সল্টলেকের আমরি হাসপাতালে; ভর্তি করা হয়েছে। তবে দিলীপের শারীরিক অবস্থা; এখন সংকটজনক নয় বলেই আমরি সূত্রে জানানো হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরেই; জ্বরে ভুগছিলেন দিলীপ। তাই নিজের বাড়িতেই; তিনি আইসোলেশনে চলে গিয়েছিলেন। কোনও কর্মসূচিতে অংশ নেননি। বাড়ি থেকে কয়েক দিন বেরোননি। এর মধ্যে তাঁর করোনা পরীক্ষাও হয়। প্রথমে রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছিল; কিন্তু জ্বর না কমায়, ফের পরীক্ষা করলে; তা পজিটিভ আসে।

মাস খানেক আগেই, দিলীপ ঘোষ বলেছিলেন; “করোনা চলে গিয়েছে। তা সত্বেও দিদিমণি, শুধু-শুধু লকডাউন করে ঢং করছেন। আসলে বিজেপি যাতে এ রাজ্যে মিটিং-মিছিল না করতে পারে; সেই কারণেই লকডাউন করা হচ্ছে। কিন্তু আমরা মিছিল মিটিং করবই। কারও আটকানোর ক্ষমতা নেই। দিলীপের সেই মন্তব্যের নিন্দা হয়েছিল সর্বস্তরে। একজন দায়িত্বশীল রাজনীতিকের এমন কথায়; ভুল বার্তা যেতে পারে বলে মনে করছিলেন বিশেষজ্ঞরা। এরপরেই করোনা মহামারীর সব বিধিনিষেধ উড়িয়ে হয়; নবান্ন অভিযান।

আরও পড়ুনঃ পুজো অনুদান নিয়ে কড়া হাইকোর্ট, দিতে হবে পাই পয়সার হিসাব, কিসে খরচা করতে হবে তাও বলে দিল আদালত

অবশ্য তার আগেই, উত্তরপ্রদেশের হাথরস কাণ্ডের প্রতিবাদে; রাজ্য সরকারের আরোপ করা সব বিধিনিষেধ উড়িয়ে; মিছিল করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই। সেই মিছিলেও কয়েক হাজার মানুষ; অংশগ্রহণ করেন। বিজেপির নবান্ন অভিযানের দিনও; কয়েক হাজার মানুষ নিয়ে; তৃণমূলের আর একটি মিছিল হয়। মমতার এই মিছিলকেও; করোনার ‘সুপার স্প্রেডার’ ইভেন্ট বলছেন বিশেষজ্ঞরা। তিনমুলের সেই মিছিলের পর; কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগনার; করোনা বৃদ্ধির হার অনেক বেড়েছে।

তৃণমূল থেকে বিজেপি; মমতা থেকে দিলীপ; কেউই করোনা মহামারীর কোন আইন মানছেন না বলেই; সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেদের মত দিয়েছেন সাধারণ মানুষ। সাধারণ মানুষকে বিপদে ফেলার পাশাপাশি; এবার নিজেদেরও বিপদে ফেলছেন রাজনৈতিক নেতা নেত্রীরা। ইতিমধ্যেই তৃণমূলের কয়েকজন নেতা-বিধায়ক; করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এবার করোনার শিকার বিজেপি রাজ্য সভাপতি। এরপরেও কি নেতা-নেত্রীদের চৈতন্য হবে? প্রশ্ন তুলেছেন আমজনতা।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন