‘শুভেন্দু মিরজাফর’ হলে মমতা কেন ‘বিশ্বাসঘাতক’ নন

919
'শুভেন্দু মিরজাফর' হলে মমতা কেন 'বিশ্বাসঘাতক' নন
'শুভেন্দু মিরজাফর' হলে মমতা কেন 'বিশ্বাসঘাতক' নন

“বি’শ্বাসঘাতক, মী’রজাফর, বে’ইমান”; দল ছেড়ে বিজেপিতে যাওয়া মাত্রই; শুভেন্দু অধিকারীকে এই ভাষাতেই আ’ক্রমণ করল তৃণমূল। সোশ্যাল মিডিয়ায় ও পূর্ব মেদিনীপুরে; শুভেন্দুর বি’রুদ্ধে পোস্টার দিল তৃণমূল। শুভেন্দু বিজেপিতে যোগ দিতেই, উ’ত্তেজনা ছড়াল; মেদিনীপুরের বিভিন্ন এলাকায়। খেজুরি, নন্দীগ্রাম থেকে পটাশপুর, বিভিন্ন জায়গায়; শুভেন্দুর ছবির পাশে ‘মি’রজাফর’ লিখে পোস্টার টাঙালেন তৃণমূল কর্মীরা। হলদিয়ায় ছেঁড়া হল; দাদার পোস্টার। সতীশ সামন্ত ভবনে; শুভেন্দুর কার্যালয় দ’খলে নিল তৃণমূল। কিন্তু, শুভেন্দু মি’রজাফর’ হলে; মমতা কেন ‘বি’শ্বাসঘাতক’ নন? প্রশ্ন তুলেছেন; সাধারণ মানুষ। ২০ বছর ধরে; যেটা বলে আসছে কংগ্রেস।

২৯ বছর বয়সে অনেক নামকরা নেতা নেত্রীকে টপকে; কংগ্রেস সাংসদ করেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। শুধু তাই নয়, তাঁকে তিনবার সাংসদ ও দুইবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী করেছে কংগ্রেস। পরে রেলমন্ত্রী হয়ে; নিজের দল গুছিয়েও নিতে পেরেছেন মমতা। যে দল মাত্র ২৯ বছর বয়সে সাংসদ করল; দুই বার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী করলো; যুব কংগ্রেসের রাজ্য সভানেত্রী করল; সেই দলকে ‘লাথি’ মেরে বেরিয়ে গেলে; সেটাকে কেন বিশ্বাসঘাতকতা বলা যাবে না?

আরও পড়ুনঃ “ক্ষুদিরাম, মাতঙ্গিনীর মাটিতে আ’দর্শহীন বি’শ্বাসঘাতক দেখল মেদিনীপুরের মানুষ”, বি’স্ফোরক কল্যাণ

যে দল শুরুর দিকে ফান্ডিং করে ও নানাভাবে লালন-পালন করে; প্রতিষ্ঠিত হতে সহায়তা করল; কেন্দ্রে দুই বার রেল সহ গুরুত্বপূর্ণ দফতরের মন্ত্রীত্ব দিল; সেই দলকে ‘লাথি’ মারলে সেটাকে বিশ্বাসঘাতকতা বলা যায় না। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন; সাধারণ মানুষ।

যে দল সব রকম আর্থিক, প্রশাসনিক সহযোগিতা দিয়ে; এমনকি হেলিকপ্টার পর্যন্ত ভাড়া করে দিয়ে; রাজ্যে সিপিএম-কে সরিয়ে, তৃণমূলকে ক্ষমতায় এনে দিল; পরে সেই দলকেই ধাক্কা মেরে এবং পশ্চিমবঙ্গ থেকে দলটাকেই তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করলে; সেটাকেও বি’শ্বাসঘাতকতা বলা যায় না?

বাম, কংগ্রেস থেকে একের পর এক নেতা, মন্ত্রী, বিধায়কদের; কোথাও বড় ‘অফার’ দিয়ে; কোথাও ‘মামলার ভয় দেখিয়ে’; “উন্নয়নের কর্মযজ্ঞে সামিল” করালে সেটা বি’শ্বাসঘাতকতা বা আদর্শচ্যুতি নয়? একমাত্র কোন নেতা, মন্ত্রী তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়লেই; সেটাকে বিশ্বাসঘাতকতা এবং ‘মা’ এর সঙ্গে বে’ইমানি? তাঁদেরকে মি’রজাফর বলা হয়। মুকুল রায় থেকে শুভেন্দু অধিকারী; দৃষ্টিভঙ্গি একই। তবে, তৃণমূলের তরফে বলা হয়েছে; “মমতা কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে; নিজের নতুন দল করেছিলেন”।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন