এর আগেও ছেড়ে গেছে একের পর এক সৈনিক, ভাঙনের ইঙ্গিত ছিলই তৃণমূলে

357
পাঁচ বছরে ছেড়ে গেছে একের পর এক সৈনিক
পাঁচ বছরে ছেড়ে গেছে একের পর এক সৈনিক

একুশের ভোটের আগেই তাসের ঘরের মতই ভেঙে পড়ছে; মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাজানো তৃণমূল কংগ্রেস। একের পর এক হেভিওয়েট নেতা-বিধায়কদের মুখে দল বিরোধী সুর। ভোটের আগেই তৃণমূল দলের অস্তিত্ব থাকবে না; বলে দাবি করছেন বিরোধী দলের নেতারা। কিন্তু এই ভাঙন আচমকা ঘটেনি। আজকে প্রতিদিন যে ভাবে তৃণমূল নেতারা দল ছাড়ছেন; তার শুরুটা হয়েছিল ৬-৭ বছর আগেই। দেখা যাচ্ছে; গত ৬-৭ বছরে তৃণমূল ত্যাগ করে বিজেপিতে যোগদান করেছেন তৃণমূলের এমন অনেক মুখ; যারা ছিলেন দিদির যোগ্য অনুগামী। কারা কারা বিগত কয়েক বছরে ছাড়লেন তৃণমূল? আর কেনই বা ছাড়তে বাধ্য হলেন?

শুরুটা হয়েছিল মুকুল রায়ের হাত ধরে। ১৯৯৭ সালে; তৃণমূল কংগ্রেসের জন্মলগ্নে নথিতে স্বাক্ষর করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই জনসংযোগকারী নেতা। কিন্তু দ্বিতিয়বার ক্ষমতা লাভের পর থেকেই; দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে দূরত্ব বাড়তে থাকে; তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড মুকুল রায়ের। শেষে ২০১৭ সালে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি যোগ দেন মুকুল রায়।

আরও পড়ুনঃ ‘টিম শুভেন্দু’, শুভেন্দু অধিকারীর দলে বাড়ছে তৃণমূল হেভিওয়েট নেতাদের সংখ্যা

তৃণমূল কংগ্রেস থেকে মুকুল বিদায়ের পরই; একের পর এক হেভিওয়েট নেতা দল ছাড়তে শুরু করেন। ২০১৯-এর মার্চে ঠিক লোকসভা ভোটের আগে; ভাটপাড়ার দর্দণ্ডপ্রতাপ তৃণমূল বিধায়ক অর্জুন সিং যোগ দেন বিজেপিতে। ব্যারাকপুরে লোকসভায় তৃণমূল প্রার্থী অর্জুন সিংকে না করে; দীনেশ ত্রিবেদীর উপরই আস্থা রাখেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলত দলত্যাগী হন অর্জুন।

আরও পড়ুনঃ শুধু বিজেপি নয়, মমতার ল’ড়াই এবার নিজের সঙ্গেও

২০১৯ সালে দল ছাড়েন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্নেহধন্য; তৃণমূল নেতা শোভন চট্টোপাধ্যায়। শুরুর থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সব আন্দোলনের সঙ্গী ছিলেন; কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়। শোভন চট্টোপাধ্যায়ের পারিবারিক অশান্তির জের পড়তে শুরু করে দলীয় কাজে। প্রকাশ্য দলীয় বৈঠকে; শোভন চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তখন থেকেই দলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়তে থাকে প্রাক্তন মেয়রের। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে; তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি-তে যোগ দেন তিনি।

এরপর এক এক করে তৃণমূল ছাড়েন; মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ রাজারহাট-নিউটাউনের তৃণমূল বিধায়ক সব্যসাচী দত্ত। কোচবিহার দক্ষিণের বিধায়ক মিহির গোস্বামীর মত বহু জননেতা। দল ছাড়ার মুখে দাঁড়িয়ে; ব্যারাকপুরের তৃণমূল বিধায়ক শীলভদ্র দত্ত। বেশির ভাগ নেতারই অভিযোগ প্রশান্ত কিশোর ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন্দ্র করে।

তৃণমূলের ক’ফিনে শেষ পে’রেক পুঁ’তে দল ছাড়ার মুখে তৃণমূলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নেতা শুভেন্দু অধিকারী। জনপ্রিয়তার নিরিখে; মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরেই; তৃণমূলের সব থেকে জনপ্রিয় নেতা ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। বিগত কয়েকমাস ধরেই দলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ে শুভেন্দু অধিকারীর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো; অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে শুভেন্দুর তিক্ত সম্পর্কের জেরেই এই দূরত্ব তৈরি হয়। সেই তিক্ততা চরমে ওঠে; দলে সিদ্ধান্তে প্রশান্ত কিশোরের হস্তক্ষেপে। বর্তমানে শুভেন্দু অধিকারী সঙ্গে তৃণমূলের সম্পর্ক শেষ। শুভেন্দুর বিজেপিতে যোগ দেওয়াটা শুধু সময়ের অপেক্ষা।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন