তৃণমূল নেতা মন্ত্রীর লোক হলে থানায় ঢুকে পুলিশ পেটানো যায়, না হলে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে গেলে জেলে যাবেন

341
মাথায় তৃণমূল নেতা মন্ত্রীর হাত থাকলে থানায় ঢুকে পুলিশ পেটানো যায়, না হলে অভিযোগ জানাতে গেলেও জেলে যাবেন/The News বাংলা
মাথায় তৃণমূল নেতা মন্ত্রীর হাত থাকলে থানায় ঢুকে পুলিশ পেটানো যায়, না হলে অভিযোগ জানাতে গেলেও জেলে যাবেন/The News বাংলা

মাথায় তৃণমূল নেতা মন্ত্রীর হাত আছে? যদি থাকে তাহলে আপনি দলবল নিয়ে; থানায় ঢুকে পুলিশ পেটাতে পারবেন। আর তা যদি না থাকে; তা হলে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে থানায় গেলেও জেলে যাবেন। সত্যি হলেও বর্তমান বাংলার এটাই আসল চিত্র। টালিগঞ্জের ঘটনা সেটা আবার প্রমাণ করে দিল। এই কলকাতায় পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে থানায় গিয়ে; দুই মহিলা মিথ্যা মামলায় জেল খেটেছেন। আবার থানায় দলবল নিয়ে চড়াও হয়েও; তৃণমূল নেতা মন্ত্রীর লোক বলে; কারোর কিছুই হয় নি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিশের এটাই এখন হাল।

২০১৭ সালের মে মাসে; থানায় ঢুকে পুলিশ কর্মীদের আশালিন আচরণের অভিযোগ জানাতে গিয়ে; মিথ্যা অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন এই কলকাতার দুই মহিলা নাগরিক। দুই মহিলার বিরুদ্ধে প্রিন্সেপ ঘাটে মদ্যপ অবস্থায় পুলিশের গায়ে হাত তোলা; ও পরে থানায় এসে অশালীন আচরণ করার অভিযোগ এনে; গ্রেফতার করে মামলা দায়ের করে৷ মিথ্যা অভিযোগে; জেল হেফাজত হয় দুই মহিলার৷ জেল হেফাজত থেকে বেরিয়ে অকারণ হেনস্থা ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগে; পুলিশের বিরুদ্ধেই ওয়াটগঞ্জ মহিলা থানায় FIR করেন ওই দুই মহিলা৷

আরও পড়ুনঃ দুর্গা পুজোয় আয়কর, রাজনীতি করার জন্যই কি মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা

কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী; তাঁর প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে পরিস্কার জানিয়ে দেন; “ওই দুই মহিলার বিরুদ্ধে মদ্যপ অবস্থায় থাকার কোন প্রমাণ পেশ করতে পারে নি পুলিশ৷ পুলিশ জোর করে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে এবং মিথ্যা মামলা করেছে”৷ মহিলাদের বিরুদ্ধে নিজের থানাতেই দায়ের করা সাউথ পোর্ট থানার পুলিশের কেস ও পুলিশের বিরুদ্ধে মহিলাদের দায়ের করা ওয়াটগঞ্জ মহিলা পুলিশ থানার কেস দুটিই; পুলিশের হাত থেকে কেড়ে লালবাজার গোয়েন্দা বিভাগকে তদন্ত করতে নির্দেশ দেন বিচারপতি।

দু বছর পরে; সম্প্রতি সেই মামলায় দুই মহিলার বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে কলকাতা পুলিশ। কারণ তাদের পিছনে তৃণমূল নেতা-নেত্রী বা মন্ত্রীর হাত ছিল না। কিন্তু সাড়ে ৫ বছর কেটে যাওয়ার পরেও; আলিপুর থানার তাণ্ডবের কোন বিচার শুরু হওয়া তো দূর; চার্জ গঠনই হয়নি। থানার ভিতরে চলে বহিরাগতদের তাণ্ডব। বাইরে থেকে ছোড়া হয় ঢিল। ওই পরিস্থিতিতে আত্মরক্ষায় মাথায় ফাইল চাপা দিয়ে; টেবিলের নীচে লুকিয়ে এক পুলিশকর্মী। কলকাতা পুলিশের চিত্র দেখে; হেসেছিল গোটা রাজ্য।

সাড়ে ৫ বছর আগের এক দুপুরে; আলিপুর থানায় দেখা গিয়েছিল সেই দৃশ্য। মামলায় এখনও চার্জশিট দিতে পারে নি পুলিশ। কারণটাও খুব সোজা। পাঁচ বছর আগের সেই ঘটনাতেও নাম জড়িয়েছিল; রাজ্যের প্রভাবশালী মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের অনুগামী প্রতাপ সাহার। অভিযুক্তেরা সকলেই ছিলেন প্রতাপের অনুগামী। পুলিশ অবশ্য প্রতাপকে গ্রেফতার করা তো দূরের কথা; ওই ঘটনার চার্জশিটে প্রতাপ সাহার নামটা পর্যন্ত যুক্ত করেনি।

এবার টালিগঞ্জ থানায় ঢুকে; পুলিশকে মারধরের ঘটনাতেও নাম জড়িয়েছে সেই ফিরহাদ হাকিমের। অভিযোগ তাঁরই অনুগামীদের একাংশের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, এবারও পুলিশ সেই অনুগামীদের নাম বাদ রেখেই; মামলা রুজু করছে। ফলে এবারও আদৌ তদন্ত হবে কি না, বা হলেও বিচার শুরু হবে কি না, তা নিয়ে ধন্দে পুলিশের নিচুতলার একাংশ।

এবার দোষী তৃণমূল নেত্রী পুতুল নস্কর। ক্যামেরার সামনে পুলিশকে চড়-থাপ্পড় মেরেও; নিরস্ত হননি তিনি। উল্টে সংবাদমাধ্যমের সামনে ফের হুঁশিয়ারি দেন; “পুলিশ আবার এলাকার ছেলেদের গ্রেপ্তার করতে এলে; পরিণাম খারাপ হবে”। টালিগঞ্জ থানায় ঢুকে হামলার পর দিনও; তাঁকে বহাল তবিয়তে এলাকায় দেখা গিয়েছিল। তিনিই যে সদলে থানায় গিয়েছিলেন; সোমবার দুপুরে চেতলার মাটালিপাড়ায় দাঁড়িয়ে তা স্বীকারও করেছিলেন। করতেই পারেন; তিনি যে ববিদার দলে। বাংলার পুলিশ প্রশাসনের হাল এখন এটাই।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন