সংসদে মন্ত্রীর হাত থেকে বক্তৃতার কাগজ ছিনিয়ে ছিঁড়ে, ডেপুটি চেয়ারম্যানকে ছুঁড়ে মারলেন তৃণমূল সাংসদ

2083
নজিরবিহীন ঘটনা, মন্ত্রীর হাত থেকে কাগজ কেড়ে সংসদ থেকে সাসপেন্ড তৃণমূল সাংসদ
নজিরবিহীন ঘটনা, মন্ত্রীর হাত থেকে কাগজ কেড়ে সংসদ থেকে সাসপেন্ড তৃণমূল সাংসদ

বেনজির দৃষ্টান্ত! সংসদে মন্ত্রীর হাত থেকে বক্তৃতার কাগজ ছিনিয়ে, ছিঁড়ে; ডেপুটি চেয়ারম্যানকে ছুঁড়ে মারলেন তৃণমূল সাংসদ। বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায়, কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণোর হাত থেকে; তাঁর বক্তৃতার কাগজ ছিনিয়ে ‌নিয়ে, ছিঁড়ে ফেলতে দেখা গেল তৃণমূল সাংসদ শান্তনু সেনকে। এখানেই শেষ নয়, সবাইকে চমকে দিয়ে পরে তিনি সেই কাগজের টুকরো-গুলি; ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবংশ নারায়ণ সিংহের আসনের দিকে ছুঁড়ে দেন। নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত সৃষ্টি হল; ভারতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায়। তবে তৃণমূলের তরফ থেকে; এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

সংসদের দুই কক্ষেই, ক্রমেই উত্তপ্ত হচ্ছে; ফোনে আড়ি পাতা সংক্রান্ত পেগাসাস বিতর্ক। তবে এদিনের সবচেয়ে নাটকীয় মুহূর্ত তৈরি হয়; তৃণমূল সাংসদ শান্তনু সেনের অভাবনীয় কাণ্ডে। আচমকাই তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণোর, হাতের কাগজ ছিনিয়ে নেন; তারপরেই তা ছিঁড়ে ফেলেন। তারপরে সেই ছেঁড়া কাগজ, তিনি ছুঁড়ে দেন; রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবংশ নারায়ণ সিংহের আসনের দিকে।

আরও পড়ুনঃ রাজ্যে গঙ্গাই নেই, অথচ গঙ্গা পরিষ্কার ফান্ডের নামে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচা

এই ঘটনার প্রতিবাদ করতে দেখা যায়; বিজেপি সাংসদদের। আরেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীর সঙ্গেও; উত্তপ্ত বাদানুবাদ হয় শান্তনু সেনের। উত্তপ্ত হয়ে ওঠে; রাজ্যসভা। পরে মার্শালের সাহায্যে; পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হয়। এদিকে তৃণমূলের শান্তনুকে সমর্থন করে, আরজেডি সাংসদ মনোজ ঝা বলেন; “বিরোধীদের প্রতিবাদ সত্ত্বেও যেভাবে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী; তাঁর বিবৃতি পড়ে শোনাচ্ছিলেন তা দেখে মনে হচ্ছিল; সরকার এই ইস্যুটিকে নিয়ে উপহাসই করতে চায়”।

কাগজপত্র এ দিক-ও দিকে ছড়িয়ে যাওয়ায়; রাজ্যসভায় নিজের বক্তৃতা সম্পূর্ণ করতে পারেননি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তবে ওই সময় তৃণমূল এবং অন্য বিরোধী দলের সাংসদরা; ওয়েলে নেমে তীব্র প্রতিবাদ জানান। তাঁরা মন্ত্রীর বিবৃতির প্রতিলিপি; ছিঁড়ে ফেলে উড়িয়ে দেন। ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবংশ নারায়ণ সিংহ, রাজ্যসভা সদস্যদের; সংযত হওয়ার আবেদন জানান। অ-সংসদীয় আচরণ থেকে বিরত করার চেষ্টা ব্যর্থ হলে; শেষমেশ রাজ্যসভা মুলতুবি ঘোষণা করা হয়। তবে শান্তনুর কাণ্ডে; নজির সৃষ্টি হল ভারতীয় সংসদের উচ্চকক্ষে।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন