‘মাওবাদী’ ছত্রধর ও ‘সিপিএম বিতাড়িত’ ঋতব্রত তৃণমূল রাজ্য সম্পাদক, ক্ষুব্ধ তৃণমূলের অনেকেই

9573
'মাওবাদী' ছত্রধর ও 'সিপিএম বিতাড়িত' ঋতব্রত তৃণমূল রাজ্য সম্পাদক, ক্ষুব্ধ অনেকেই

‘মাওবাদী’ ছত্রধর মাহাতো ও ‘সিপিএম বিতাড়িত’ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়; তৃণমূল রাজ্য সম্পাদক। আর এতেই ক্ষুব্ধ অনেক তৃণমূল নেতাই। তবে, সিদ্ধান্ত যেহেতু তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই নিয়েছেন; তাই প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন না কেউই। তবে ঘনিষ্ঠ মহলে অনেকেই বলেছেন; এতে হিতে বিপরীত হবে। মানুষ এদের গ্রহণ করবে না। ফলে ভোট কমবে তৃণমূলের; ফায়দা হবে বিজেপির। অপ্রত্যাশিতভাবে, একুশের বিধানসভা ভোটের আগে; সাংগঠনিক স্তরে বড়সড় রদবদল ঘটল তৃণমূলে। রীতিমতো ঢেলে সাজানো হয়েছে; দলের সংগঠনকে। জঙ্গলমহলেও আনা হয়েছে বেশ কিছু নতুন মুখ।

আরও পড়ুনঃ একনজরে দেখে নিন, তৃণমূলের নতুন স্টিয়ারিং কমিটি ও কোঅর্ডিনেশন কমিটি-তে কারা আছেন

মাওবাদী সন্দেহে দীর্ঘকাল জেলবন্দি থাকার পর; গতবছর মুক্ত হওয়া ছত্রধর মাহাতোকে; সরাসরি নিয়ে আসা হয়েছে তৃণমূলের রাজ্য কমিটিতে। সিপিএম নেতা ও সাধারণ মানুষ মেরে জেল খাটার পরে; তৃণমূল রাজ্য কমিটিতে মাওবাদী ছত্রধর মাহাতো। ছত্রধর মাহাতোর এই সংযোজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে; রাজনৈতিক মহলের একটা বড় অংশ। পাকাপোক্ত পরিকল্পনা করেই; তাঁকে রাজনীতি মূল স্রোতে তাকে ফিরিয়েছে এনেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়; তেমনটাই মনে করা হচ্ছে।

একনজরে দেখে নিন, তৃণমূলের নতুন স্টিয়ারিং কমিটি ও কোঅর্ডিনেশন কমিটি-তে কারা আছেন
একনজরে দেখে নিন, তৃণমূলের নতুন স্টিয়ারিং কমিটি ও কোঅর্ডিনেশন কমিটি-তে কারা আছেন

আরও পড়ুনঃ মমতার ছাঁটাই তালিকায়, ফিরহাদ হাকিমের জামাই ইয়াসির হায়দার ও অরূপ বিশ্বাসের ভাই স্বরূপ বিশ্বাস

জেল থেকে বেরোনোর পরেই ছত্রধর বলেছিলেন; “২০২১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই; ফের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই। আমি ওঁর আদর্শে অনেকখানি প্রভাবিত। জঙ্গলমহলে যে উন্নয়ন হয়েছে; তা অন্য কোনও সরকার করতে পারত বলে মনে করি না”। তখনই আভাস পাওয়া গিয়েছিল যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও; তাকে নিয়ে নতুন করে কিছু ভাবছেন। তবে তাঁকে সরাসরি রাজ্য কমিটিতে ঢুকিয়ে নেওয়া হবে; তা অনেক তৃণমূল নেতাই ভাবতে পারছেন না।

আরও পড়ুনঃ ২১ এর ভোটে বিজেপি-কে টেক্কা দিতে, জেলায় জেলায় নতুন মুখ তৃণমূল নেত্রী মমতার

একইসঙ্গে আলিপুরদুয়ারে জেলা কমিটিতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে; বহিষ্কৃত সিপিএম সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে। একসময় তিনি সিপিএম নেতৃত্বের একাংশের খুবই স্নেহধন্য় ছিলেন। কিন্তু তার বিলাসবহুল জীবনযাপন নিয়ে; প্রশ্ন উঠেছিল। দল ছাড়াতে না চাইলেও; ষড়যন্ত্র করে তাকে বহিঃস্কার করা হয়, অভযোগ করেছিলেন ঋতব্রত। এখন মুখ্যমন্ত্রীর বড় ভরসা তিনি। একাধিক এজেন্ডায় তিনি যে তৃণমূলকে সমর্থন করেন; দল ছাড়ার পরই তা জানিয়েছিলেন। দলনেত্রীও তার সেই কথায় আস্থা রেখে জেলা কমিটিতে তাকে নিয়ে এসেছেন; রাজ্য সম্পাদকের পদ দিয়েছেন।

একসময় বিরোধী শিবিরে থাকা ঋতব্রতর কাছে; বিধানসভা নির্বাচনের আগে; মুখ্যমন্ত্রীর ভরসা রাখাটা এখন চ্যালেঞ্জ। তবে একদিকে ‘মাওবাদী’ ছত্রধর ও ‘সিপিএম বিতাড়িত’ তৃণমূল রাজ্য সম্পাদক ঋতব্রত; এখন জেলা কমিটির নতুন দায়িত্বে। একুশে বিধানসভার আগে বাংলায় শাসকদলের গদিকে ধরে রাখতে; ময়দানে নেমে কাজ করবেন তারাও; যা এখন অনেক তৃণমূল নেতাই; সহজে তা হজম করতে পারছেন না। দলের অন্দরে কানাঘুষো চলছেই; যে এমন সিদ্ধান্তে হিতে বীপরিত হতে পারে। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত ঠিক না ভুল; তা তো সময়ই বলবে।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন