নির্ভয়া কাণ্ডে ফাঁসি রুখতে আইন নিয়ে ছেলেখেলা

354
শাসক আসবে শাসক যাবে, ফাঁসি আমাদের হবে না/The News বাংলা
একইসঙ্গে চারজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে/The News বাংলা

নির্ভয়া কাণ্ডে ফাঁসি রুখতে আইন নিয়ে ছেলেখেলা। আইন নিয়ে ছেলেখেলা অভিযুক্তদের আইনজীবীদের। তারিখ পে তারিখ তারিখ পে তারিখ। কিন্তু কাজের কাজটা কিছুতেই হচ্ছে না। দেশের শীর্ষ আদালতের রায়; রাষ্ট্রপতির ক্ষমা না করার পরেও; নির্ভয়া কাণ্ডের নৃশংস অপরাধীদের ফাঁসিতে ঝোলানো যাচ্ছে না। ভারতীয় আইন ব্যবস্থা নিয়ে যেন ছেলেখেলা করছে; দিল্লির নির্ভয়া কাণ্ডের চার অপরাধী। গোটা দেশের মানুষ হতবাক; এভাবেও ভারতের আইন সংবিধান নিয়ে দিনের পর দিন ঠাট্টা তামাশা করা যায়!

দীর্ঘ সাত বছরের আইনি লড়াই শেষে; গত ৭ জানুয়ারি পাতিয়ালা হাউস কোর্টের বিশেষ বিচারপতি সতীশ অরোরা নির্ভয়ার চার ধর্ষকের বিরুদ্ধে; মৃত্যু পরোয়ানা জারি করে নির্দেশ দেন; ২২ জানুয়ারি সকাল ৭ টার সময় তাদের ফাঁসি দিতে হবে। কিন্তু সেই সঙ্গে ওই দোষীদের বিকল্প আইনি সহায়তা নেওয়ার জন্য ১৪ দিন সময়ও বরাদ্দ করেছিলেন তিনি।

এরপরেই এই মৃত্যু পরোয়ানা জারির বিরুদ্ধে; ফের দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন; চার ধর্ষকের আইনজীবীরা। কিন্তু দিল্লি হাইকোর্ট এই আর্জি শুনতে রাজি হয়নি। এরপর রায় সংশোধনের আর্জি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দরজায় কড়া নেড়েছিল দুই ধর্ষক। কিন্তু দেশের শীর্ষ আদালত সেই আর্জি খারিজ করে দেয়। তারপরেই; রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের কাছে প্রাণভিক্ষার আর্জি জানিয়েছিল অপরাধীরা। পত্রপাঠ সেই প্রাণভিক্ষার আর্জি খারিজ করে দেন; রাষ্ট্রপতি। এরপরই নয়া মৃত্যু পরোয়ানা জারি করে আদালত।

যেহেতু মৃত্যু পরোয়ানা জারির ১৪ দিন বাদে ফাঁসি দেওয়ার নিয়ম; তাই আইনি জটিলতায় ২২ জানুয়ারি যে ফাঁসি হচ্ছে না; তা আগেই বোঝা গিয়েছিল। কিন্তু পরিবর্তে কবে ফাঁসি হবে; তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল। পরে; নির্ভয়ার ধর্ষকদের ফাঁসির নয়া দিন ঘোষণা করে; পাতিয়ালা হাউস কোর্ট। ২২ জানুয়ারির পরিবর্তে ১ ফেব্রুয়ারি সকাল ৬ টার সময়ে; এই চার দোষীর মৃত্যদণ্ড কার্যকর করার জন্য নির্দেশ দেয় পাতিয়ালা হাউস কোর্টের বিচারপতি সতীশ অরোরা। নতুন করে চার ধর্ষকের মৃত্যু পরোয়ানা জারি হওয়ায় খুশি; ব্যক্ত করেন নির্ভয়ার মা আশা দেবীও।

কিন্তু কোথায় কি? ফের অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়ে গেল; নির্ভয়া কাণ্ডের অপরাধীদের ফাঁসি। এর আগে মেয়ের ধর্ষকদের ফাঁসি নিয়ে; টালবাহানা চলায় কার্যত ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন নির্ভয়ার মা। তাঁর চোখের জল গোটা ভারতের আমজনতাকে ক্ষুব্ধ করেছিল। আর এবার দ্বিতীয়বার ফাঁসি স্থগিত হয়ে যাবার পর; তিনি সাংবাদিকদের শুধু বলেছিলেন, “শুধু তারিখের পর তারিখ পড়ছে। জানি না কী হবে? মেয়েকে নির্মমভাবে মারল যারা তারা কবে ফাঁসির দড়িতে ঝুলবে; তা বুঝতেই পারছি না। শুধু এটুকু বুঝতে পারছি, ফাঁসি নিয়েও রাজনীতি হচ্ছে”।

নির্ভয়া ধর্ষকদের ফাঁসি নিয়ে টালবাহানা ও আইনি জটিলতার পর; নড়েচড়ে বসেছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। আইনের ফাঁক গলে যাতে অপরাধীরা সময় নষ্ট করতে না পারে; তার জন্য মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিধি বদল চেয়ে; দেশের শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে; স্বরাষ্ট্র দফতর। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের পক্ষ থেকে দেশের শীর্ষ আদালতে আর্জি জানানো হয়েছে, মৃত্যু পরোয়ানা জারির ৭ দিনের মধ্যেই প্রাণভিক্ষার আবেদনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হোক। বর্তমানে মৃত্যু পরোয়ানা জারির পর; প্রাণভিক্ষার জন্য ১৪ দিন সময়সীমা রয়েছে। পাশাপাশি কিউরেটিভ পিটিশন দাখিলের জন্যও; সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার আর্জি জানিয়েছে; কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দফতর।

নির্ভয়ার ধর্ষকদের ফাঁসি নিয়ে; গত কয়েকমাস ধরেই চর্চা চলছে। বারবার বিকল্প আইনি সাহায্য নিয়ে যেভাবে ফাঁসির দড়ি এড়িয়ে যাচ্ছে অপরাধীরা; তাতে ক্ষোভ জমছে আমজনতার মনে। নতুন মৃত্যু পরোয়ানা জারি করতে গিয়ে; ফাঁসির আসামীরা যেভাবে আইনি সাহায্য নেওয়ার নামে সময় নষ্ট করছে; তা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন পাতিয়ালা হাউস কোর্টের বিচারপতি সতীশ অরোরা।

ভারতে আইনের ফাঁক কাজে লাগিয়ে নির্ভয়ার ধর্ষকরা বারবার ফাঁসির দিন পিছিয়ে দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে; হায়দরাবাদ এনকাউন্টারের পুনরাবৃত্তিই দেখতে চাইছে সবাই! হায়দরাবাদের মতই বিনাবিচারে ধর্ষণের অপরাধীদের গুলি করে মারা হোক; দাবি উঠেছে গোটা দেশ থেকেই।

এর পরিপ্রেক্ষিতে নির্যাতিতার স্বপক্ষে মুখ খুলেছেন; স্বয়ং সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি শরদ অরবিন্দ বোবদে। তিনি বলেছেন; ‘এই ধরনের মামলার ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট নির্যাতিতার অধিকার সুরক্ষিত করার দিকেই; ফোকাস করবে। অভিযুক্ত বা দোষী সাব্যস্তের কাছে যেন আইনের ফাঁক দিয়ে গলে যাওয়ার সুযোগ না থাকে। অথবা আইনের ফাঁককে কাজে লাগিয়ে; সে যেন বিচারের প্রক্রিয়া দীর্ঘ না করতে পারে। কোনওভাবেই সে যেন অন্তহীন লড়াই করার সুযোগ না পায়।’

তবে আপাতত সেটাই দেখছে; ভারতের আমজনতা। তারিখ পে তারিখ। তারিখ পে তারিখ। তারিখ পে তারিখ……………..

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন