মুখ্যমন্ত্রীর সুপার ফেসিলিটি হাসপাতালে, হয়রানির শিকার তৃতীয় লিঙ্গের মানবী

4175
করোনা পরীক্ষা করাতে গিয়ে হাসপাতালে 'হয়রানির' শিকার তৃতীয় লিঙ্গের মানবী
করোনা পরীক্ষা করাতে গিয়ে হাসপাতালে 'হয়রানির' শিকার তৃতীয় লিঙ্গের মানবী

করোনা পরীক্ষা করাতে গিয়ে হাসপাতালে ‘হয়রানির’ শিকার; তৃতীয় লিঙ্গের মানবী বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধুমাত্র ট্রান্স-নারী বলেই, তাঁর করোনা পরীক্ষা করা হয়নি; রাজ্য নারী শিশু ও সমাজকল্যাণ দফতরে লিখিত অভিযোগ করেছেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গের ‘ট্রান্সজেন্ডার ট্রান্সপার্সন বোর্ড’ এর সহ অধ্যক্ষ; ঢোলা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা মানবী বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যদি এমন ব্যবহার হয়; তাহলে রাজ্যের সাধারণ তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের অবস্থা কি হতে পারে? উঠে গেছে প্রশ্ন। শোরগোল গোটা রাজ্যে।

বেশ কিছুদিন ধরেই জ্বরে আক্রান্ত; মানবীর স্বামী। জ্বর এসেছে তাঁরও। বেসরকারি নার্সিংহোমে না গিয়ে; এম আর বাঙ্গুর হাসপাতালে করোনা টেস্ট করাতে গিয়ে; প্রবল অপমানিত হতে হল মানবী বন্দ্যোপাধ্যায়কে। ঢোলা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা মানবী-র অভিযোগ, শনি এবং রবিবার করোনা পরীক্ষার জন্য; কলকাতা শহরের বিভিন্ন জায়গায় হন্যে হয়ে ফোন করেছেন। এমনকি, বাঙুর হাসপাতালেও; গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তাঁর করোনা পরীক্ষা করা হয়নি। তিনি জানিয়েছেন, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ বলেই; রাজ্যের সরকারি হাসপাতালে তাঁর সঙ্গে; অস্পৃশ্য অচ্ছুতের মত ব্যবহার করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ ট্রেন বাস বন্ধ মরছে গরিব, অবস্থাপন্নের মুখে হাসি, খোলা বার হোটেল

নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতা জানিয়ে মানবী বলেন; “আমার স্বামীর জ্বর থাকায় আমরা এম বাঙ্গুরে; আরটি পিসিআর টেস্ট করাতে যাই। কিন্তু ঢুকতেই বাধার মুখে পড়ি। এক মহিলা সিকিউরিটি আমাকে দেখে; রীতিমতো তেড়ে আসেন। যে ব্যবহার করলেন; তা কুকুর বিড়ালদের সঙ্গেও কেউ করে না। সবুজ গাউন পরিহিত দুজনকে কার্ড দেখাতে চাইলাম যে; আমি ট্রান্সজেন্ডার বোর্ডের ভাইস চেয়ারপার্সন। কিন্তু ওঁরা তা দেখলেন না বরং আমাকে মেন্টাল বলে; রীতিমতো তাড়িয়ে দিলেন। সরকারী কর্মচারীরা কতদুর মনুষ্যত্বহীনতায় পৌঁছেছে; আমি জীবন বাজি রেখে বুঝলাম”।

আরও পড়ুনঃ বাস ট্রেন বন্ধ, খোলা বার রেস্তোরাঁ, উড়ে যাবার জন্য ডানা খুঁজছে বাঙালি

নারী শিশু ও সমাজকল্যাণ দফতরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি সংঘমিত্রা ঘোষের কাছে; লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন মানবী। গোটা ঘটনাটি মেইল করে, রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব; বিধায়ক নির্মল মাঝি; মেয়র ফিরহাদ হাকিম এবং ট্রান্সজেন্ডার ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের চেয়ারপার্সন শশী পাঁজাকে জানান মানবী। খাস কলকাতায় যদি অধ্যাপিকা মানবী বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সঙ্গে এই ব্যবহার করেন; সরকারি হাসপাতালের কর্মীরা; তাহলে গোটা রাজ্যে এই ধরণের মানুষদের অবস্থাটা; খুব সহজেই অনুমান করা যায়।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন