চোখের সামনে মৃত পরিবার, প্রাণ বাঁচাতে পাকিস্তান থেকে ‘ভাগ মিলখা ভাগ’

1064
চোখের সামনে মৃত পরিবার, প্রাণ বাঁচাতে পাকিস্তান থেকে 'ভাগ মিলখা ভাগ'
চোখের সামনে মৃত পরিবার, প্রাণ বাঁচাতে পাকিস্তান থেকে 'ভাগ মিলখা ভাগ'

চোখের সামনে মৃ’ত পরিবার; প্রান বাঁচাতে উঠে পড়েছিলেন দিল্লিগামী ট্রেনে। দেশভাগের পর প্রান হাতে; পাকিস্তান থেকে পালিয়ে এসেছিলেন মিলখা সিং। কিংবদন্তি অ্যাথলিট ‘উড়ন্ত শিখ’ মিলখা সিং-এর প্রয়ানে; সারা দেশে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। জীবনে অনেক দৌড়বিদকে দৌড়ে হারালেও; মারণ ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে হার মানলেন মিলখা। তবে দেশভাগের যন্ত্রণা থেকে সাফল্যের শিখরে উঠে; মিলখা সিং হওয়া সহজ ছিল না। দেশভাগের সময়; পাকিস্তানে চোখের সামনে দেখেছিলেন; বাবা, মা, এক ভাই ও দুই বোনের মৃত্যু। হাতে প্রান নিয়ে ভারতে পালিয়ে এসেছিলেন বিশ্ব বরেণ্য ‘উড়ন্ত শিখ’ মিলখা।

১৯২৯ সালের ২০ নভেম্বর; পাকিস্তানের গোবিন্দপুরায় জন্ম মিলখা সিংয়ের। জীবনের প্রথম দিকটা কষ্ট আর সংগ্রামের মধ্য দিয়ে কেটেছে তাঁর ৷ দেশভাগের সময়; চোখের সামনে বাবা, মা, এক ভাই ও দুই বোনের মৃ’ত্যু দেখেছিলেন তিনি ৷ প্রাণ বাঁচাতে উঠে পড়েছিলেন; দিল্লিগামী একটি ট্রেনে। সেটি ছিল মেয়েদের বগি ৷ ধরা পড়ার ভয়ে; সিটের নিচে লুকিয়ে দিল্লি এসেছিলেন মিলখা। সেই ছোট বয়সেই দেশভাগের যন্ত্রণা বুকে নিয়ে; জীবন সংগ্রাম শুরু করেছিলেন তিনি।

দেশভাগের পর প্রান হাতে; পাকিস্তান থেকে পালিয়ে এসেছিলেন মিলখা সিং
দেশভাগের পর প্রান হাতে; পাকিস্তান থেকে পালিয়ে এসেছিলেন মিলখা সিং

ভারতে এসে পরিবার হারানো মিলখার ঠাঁই হয়; দিল্লিতে পুরানা কিলা ও শাহদারার উদ্বাস্তু ক্যাম্পের শিবিরে। পুরানো দিল্লি রেলস্টেশনের ফুটপাথে একটি ধাবায়; এঁটো বাসন মেজে দিলে জুটত খাবার। এই ভাবে চলতে চলতে; একদিন ভাই মলখন সিংয়ের পরামর্শে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। উদ্দেশ দুইবেলা পেট ভরে খাবার পাবার।

আরও পড়ুনঃ একবার ঘাড় ঘুরিয়ে দেখতে গিয়েই জীবনের চরমতম ভুল, আক্ষেপ করেছেন সারাজীবন

চতুর্থবারের প্রচেষ্টায় ১৯৫২ সালে; সেনায় যোগ দেন মিলখা সিং। ওই বছর সেকেন্দ্রাবাদে তাঁকে; সেনার ক্রীড়া দলে সুযোগ দেওয়া হয় ৷ সেনাবাহিনীতে থাকার সময়; ‘ক্রস কান্ট্রি’ রেসে অংশ নিয়ে ষষ্ঠস্থান অর্জন করেন ৷ এই সাফল্যের পর; সেনার তরফে মিলখাকে বিশেষ ট্রেনিং দেওয়া হয় ৷ সেই থেকে ‘ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে’; মিলখার আনাগোনা শুরু ৷ কঠিন পরিশ্রম আর কিছু করে দেখানোর জেদ; আন্তর্জাতিক স্তরে সাফল্য এনে দেয়।

আরও পড়ুনঃ নিষিদ্ধ দ্বীপের বাঙালি রানী, অসম্ভবকে সম্ভব করা বাঙালি নারী

রোম অলিম্পিকসের পর; ইতিহাসে ঢুকে পড়েন মিলখা। ১৯৬০ সালের রোম অলিম্পিক গেমসে ফটোফিনিশে; পদক হাতছাড়া হয় মিলখা সিংয়ের। সেই বারের ৪০০ মিটারের ফাইনাল; আজও ইতিহাস হয়ে আছে। অ্যাথলিট হিসেবে তাঁর সাফল্য ঈর্ষনীয়। এশিয়ান গেমসে ৪টি সোনা; কমনওয়েল্থে সোনা সহ জাতীয় গেমসেও রয়েছে ২টি সোনা।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন