রাজ্যপালকে দেখেও উঠতে পারলেন না অসুস্থ উপাচার্য, শিক্ষামন্ত্রী দেখেই দুপায়ে খাড়া

14224
রাজ্যপালকে দেখেও উঠতে পারলেন না অসুস্থ উপাচার্য, শিক্ষামন্ত্রী দেখেই দুপায়ে খাড়া/The News বাংলা
রাজ্যপালকে দেখেও উঠতে পারলেন না অসুস্থ উপাচার্য, শিক্ষামন্ত্রী দেখেই দুপায়ে খাড়া/The News বাংলা

রাজ্যপালকে দেখেও উঠতে পারলেন না অসুস্থ উপাচার্য; শিক্ষামন্ত্রী দেখেই দুপায়ে খাড়া। দুই বিপরীত ছবি দেখে; অবাক রাজ্যের শিক্ষামহল। শনিবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সুরঞ্জন দাসকে দেখতে যান; রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। অসুস্থ উপাচার্য উঠতে পারেন নি। বিছানায় শুয়ে শুয়েই; রাজ্যপালের শুভেচ্ছা নেন। রাজ্যপাল দেখে বেরোনোর পর; কিছুক্ষনের মধ্যেই উপাচার্যকে দেখতে যান শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। আর শিক্ষামন্ত্রীকে দেখেই দুপায়ে খাড়া; অসুস্থ উপাচার্য!

বৃহস্পতিবার যাদবপুরের ঘটনায়; ধস্তাধস্তির মধ্যে পড়ে যান উপাচার্য সুরঞ্জন দাস। তিনি এবং সহ-উপাচার্য অসুস্থ হয়ে পড়েন। দুজনকেই তড়িঘড়ি ঢাকুরিয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শনিবার সকালে উপাচার্য এবং সহ-উপাচার্যের সঙ্গে; দেখা করেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ও। প্রায় ১৫ মিনিট ধরে কথা বলেন দুজনের সঙ্গেই; সমস্ত রকম সমস্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ যাদবপুর নিয়ে সেলিম বাবুল বাকযুদ্ধ, যৌন উত্তেজনাকর মন্তব্যের অভিযোগে উত্তাল

বিছানায় শুয়ে শুয়েই রাজ্যপালের শুভেচ্ছা নেন উপাচার্য সুরঞ্জন দাস। যদিও তখন এই নিয়ে কোন কথাই ওঠে নি। স্বাভাবিক ব্যাপার। অসুস্থ মানুষ তো শুয়ে শুয়েই কথা বলবেন। কিন্তু পরিস্থিতি বদলে যায় কয়েকঘণ্টা পরেই। যখন হাসপাতালে আসেন; শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। আর এরপরেই ঘটল; সেই অস্বাভাবিক ঘটনা।

রাজ্যপালকে দেখেও যে অসুস্থ উপাচার্য বিছানা ছেড়ে উঠতেই পারেন নি; সেই সুরঞ্জন দাস শিক্ষামন্ত্রীকে দেখেই বিছানা থেকে নেমে দুপায়ে খাড়া। রাজ্যপালের শুভেচ্ছা নিয়েছিলেন বিছানায় শুয়ে। শিক্ষামন্ত্রীর ফুল নিলেন; সম্পূর্ণ নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে।

অসুস্থ উপাচার্য ও সহ-উপাচার্যকে; মুখ্যমন্ত্রীর পাঠানো ফুলের তোড়া দেন তিনি। বেশ কিছুক্ষণ তিনি কথা বলেন উপাচার্যের সঙ্গে। তাঁকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শও দেন; পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে কাজে ফেরার জন্য বলেন শিক্ষামন্ত্রী। কথা বলেন চিকিৎসকদের সঙ্গেও।

হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমকে পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন; “রাজ্যপাল রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। আশা করি তিনি তাঁর পদের গরিমা রক্ষা করবেন”। রাজনৈতিক মহলের দাবি; পার্থ আসলে ঘুরিয়ে সেদিনের ঘটনায় রাজ্যপালের ভূমিকার দিকে ইঙ্গিত করেই ওই মন্তব্য করেছেন। তবে রাজ্যপাল এদিন কোন রাজনৈতিক মন্তব্য করেন নি। তবে রাজ্যপাল ও শিক্ষামন্ত্রীর প্রতি; উপাচার্য সুরঞ্জন দাস এর আলাদা আলাদা সম্মান প্রদর্শন; বেশ অস্বস্তিকর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে শিক্ষা মহলে।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন