দেশে প্রথম বিধবা ভাতা চালু করেছিলেন বিদ্যাসাগর, পুরনো সিন্দুক দিল প্রমাণ

416
দেশে প্রথম বিধবা ভাতা চালু করেছিলেন বিদ্যাসাগর, পুরনো সিন্দুক দিল প্রমাণ/The News বাংলা
দেশে প্রথম বিধবা ভাতা চালু করেছিলেন বিদ্যাসাগর, পুরনো সিন্দুক দিল প্রমাণ/The News বাংলা

দেশে প্রথম বিধবা ভাতা চালু করেছিলেন বিদ্যাসাগর; পুরনো সিন্দুক দিল প্রমাণ। সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয়ে সিন্দুক ভাঙতে বেরিয়ে আসে চমকে যাওয়ার মতো একাধিক নথি। তৎকালীন সংস্কৃত কলেজে পড়াতেন ঈশ্বচন্দ্র বিদ্যাসাগর। তিনি বিধবা বিবাহের প্রবর্তক ছিলেন; একথা সকলের জানা। কিন্তু এদিন সিন্দুক থেকে এমন কিছু তথ্য সামনে এসেছে; যা হয়তো কেউই জানতই না। জানা যায়; সেইসময় বিদ্যাসাগর বিধবাদের জন্য একটি ফান্ডও চালু করেছিলেন।

সেই ফান্ড থেকে মাসিক ভাতা পেতেন; আটজন বিধবা মহিলা। মাসে ২ টাকা করে ভাতা পেতেন তারা। মুক্তকেশী দেবীর বিধবা ফান্ড নামে; সেই নথিতে কোন স্বামীহারা মহিলা কত অর্থ পেয়েছেন; তার বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। বর্ধমান জেলার উল্লেখ রয়েছে সেখানে। নথিটি যে ১৯৫৬ সালের তাও ওই নথিতেই উল্লিখিত রয়েছে।

আরও পড়ুন: বিদ্যাসাগরের সিন্দুক থেকে উদ্ধার গোপন নথি, চমকে গেল বাংলা

শুক্রবার চারঘণ্টার প্রচেষ্টায় খোলা বিদ্যাসাগরের সিন্দুক থেকে উদ্ধার গোপন নথি; চমকে যায় বাংলার মানুষ। সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয়ে দুশো বছরের প্রাচীন সিন্দুক থেকে এদিন উদ্ধার হয় নথি; খাম ও সার্টিফিকেট। উদ্ধার করা হয় তিনটি স্মারক। যার মধ্যে একটির নাম গঙ্গারানীদেবী স্মারক। বহু দুষ্প্রাপ্য নথি মিলেছে; বিদ্যাসাগরের আমলের সিন্দুক থেকে। একটি ক্যাশবাক্সও পাওয়া গিয়েছে। পাওয়া গেছে বেশ কিছু; খামবন্দি ডকুমেন্ট; যেগুলোতে সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব সম্পত্তির হিসাব আছে বলেই জানাচ্ছেন উপাচার্য।

বিধবা বিবাহ চালু করেন বিদ্যাসাগর; এই তথ্য সকলেরই জানা। কিন্তু সিন্দুক থেকে এদিন উদ্ধার হওয়া একটি বিশেষ তথ্য সামনে এসেছে; যা সকলকে শিহরিত করেছে। সেখানে বেশকিছু নথি পাওয়া গিয়েছে; যার থেকে প্রমাণিত হয়; বিদ্যাসাগর বিধবা মহিলাদের জন্য একটি ফান্ড চালু করেছিলেন; যার নাম ‘মুক্তোকেশি উইডো ফান্ড’। মোট আটজন মহিলা; এই ফান্ড থেকে কিছু টাকা পেতেন।

শুক্রবার সকাল থেকেই সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয়ে; সিন্দুক উদ্ধার ঘিরে টানটান উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। কি থাকতে পারে ওই সিন্দুকে; জানতে উপস্থিত সকলের মধ্যে ক্রমশ বাড়তে থাকে কৌতুহল। চার ঘণ্টার প্রচেষ্টায় হাতুড়ি দিয়ে তালা ভেঙে; সিন্দুক খোলা সম্ভব হয়। সিন্দুক নিয়ে উপাচার্য জানিয়েছিলেন; বিদ্যাসাগরের আমলের ব্রিটিশদের সময়কালের এই সিন্দুকটি। পরে ওই সিন্দুকে একটি অ্যাটেন্ডেন্স খাতাও পাওয়া যায়; যেখানে বিদ্যাসাগরের নামের উল্লেখ পাওয়া যায়।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন