নিয়োগ শুরু হবার আগেই, পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য দফতরের ফেসিলিটি ম্যানেজার নিয়োগে দুর্নীতির আশঙ্কা

303
নিয়োগ শুরু হবার আগেই, পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য দফতরের ফেসিলিটি ম্যানেজার নিয়োগে দুর্নীতির আশঙ্কা/The News বাংলা
নিয়োগ শুরু হবার আগেই, পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য দফতরের ফেসিলিটি ম্যানেজার নিয়োগে দুর্নীতির আশঙ্কা/The News বাংলা

পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য দফতরের ফেসিলিটি ম্যানেজার নিয়োগেও ব্যপক দুর্নীতির আশঙ্কা; নাম রয়েছে সানি, সুদামা, হ্যালোর। নিয়োগের আগেই অভিযোগ! রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরে ফের দুর্নীতি হতে চলেছে; এমনটাই অভিযোগ। পশ্চিমবঙ্গ হেলথ্ ডিপার্টমেন্টে ফেসিলিটি ম্যানেজারের; ভেরিফিকেশন লিস্ট বেরিয়েছে গ্রাজুয়েশন আর হায়ার সেকেন্ডারি-তে প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে। অভিযোগ, তাতে রয়েছে ব্যপক গোঁজামিল।

হেলথ্ ডিপার্টমেন্টে ফেসিলিটি ম্যানেজারের; ভেরিফিকেশন লিস্ট বেরিয়েছে। আর তারপরেই শুরু হয়েছে; ব্যপক ক্ষোভ বিক্ষোভ। ফের তৃণমূল দুর্নীতি করতে চলেছে; এবং দুর্নীতির শুরুতেই চাকরি পাবার লিস্টেই লোক হাসিয়েছে; এমনটাই অভিযোগ।

আরও পড়ুনঃ জর্জ বেকার ও তসলিমা নাসরিন আমার বাবা মা, মেয়ের স্বীকৃতি আদায়ে লড়াই অঙ্কিতার

ফেসিলিটি ম্যানেজারের রাঙ্কে ভেরিফিকেশনের জন্য যার নাম রয়েছে; তার নাম হেলো মারডি; তার বাবার নাম হে মারডি। সে উচ্চ-মাধ্যমিকে পেয়েছে ৯৭.৮০ শতাংশ নম্বর। গ্রাজুয়েশনে পেয়েছে ৯৬% নম্বর। এই নামে সম্প্রতি কেউ উচ্চ-মাধ্যমিকে এত নাম্বার পেয়েছে; বলে কেউ মনে করতে পারছেন না। আর কোন ইউনিভার্সিটি-তে গ্রাজুয়াশনে এত নম্বর দেয়; উঠেছে প্রশ্ন। ১৯৯৭ সালে জন্ম। হিসাব অনুযায়ী ২০১৮-২০১৯ সালেই; গ্রাজুয়েশন শেষ করেছে সে। সাম্প্রতিক কালে গ্রাজুয়েশনে এত নাম্বার; কেউ পেয়েছে বলে কোন খবর নেই।

নিয়োগ শুরু হবার আগেই, পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য দফতরের ফেসিলিটি ম্যানেজার নিয়োগে দুর্নীতির আশঙ্কা

দ্বিতীয় রাঙ্ক যিনি পেয়েছেন; সেই পায়েল ঘোষ মণ্ডলের বাবার নামও পায়েল ঘোষ মণ্ডল। বাবা আর মেয়ের এক নাম। সে গ্যাজুয়েশনে পেয়েছে ৯৮ শতাংশ নম্বর। ৯৮ শতাংশ নম্বর গ্রাজুয়েশনে? কেউ বিশ্বাস করতে পারছেন না। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রাক্তন প্রফেসার গ্রাজুয়েশনের নম্বর শুনে নিশ্চিত করে বলেছেন; ভারতের কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এই নম্বর কেউ পায় নি ইদানিংকালে।

বাকি আরও আছে। পঞ্চম স্থানে নাম থাকা ছেলে সুদামা। আর তার বাবার নাম কৃষ্ণ। কি দারুণ লজিক। ২১ নম্বরে থাকা একটি মেয়ের নাম সানি; বাবার নাম অঙ্কিত। এদের নো টাইটেল। অষ্টম স্থানে থাকা ছেলে দীপক সেন; আর তার বাবা আবার দীপক রায়।

আরও পড়ুনঃ বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি নিয়ে বিজেপির মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জ, জলকামান

এখানেই শেষ নয়। নাম আছে ড্যানিয়েলের; যার বাবার নাম ভিরা সুন্দরা দাস। চমকাবেন না; সে গ্রাজুয়েশনে পেয়েছে ১০০ শতাংশ নাম্বার! গ্রাজুয়েশনে ৯৫-৯৬ শতাংশ নাম্বার পেয়ে; অনেকেই লিস্টে আছে। বেশিরভাগ এসসি, এসটি ও ওবিসি। কিন্তু সাম্প্রতিককালে গ্রাজুয়েশনে এত নম্বর কেউ পায়নি বলেই জানিয়েছেন; বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের এক প্রফেসর।

জেনারেলদের থেকে ২৫০ টাকা করে নিয়ে; ফর্ম ফিল আপ করিয়ে ইয়ার্কি হচ্ছে? প্রশ্ন তুলেছেন অন্যান্য প্রার্থীরা। নিয়োগ ভেরিফিকেশন এখনও হয় নি; কিন্তু ইতিমধ্যেই এই নিয়ে তদন্ত শুরু করার দাবী উঠেছে। রাজ্যের মন্ত্রী ও স্বাস্থ্য দফতরের নিয়োগ বিভাগের সদস্য; তৃণমূলের চিকিৎসক নেতা নির্মল মাঝি বলেন; “অভিযোগ উঠতেই পারে; খতিয়ে দেখতে হবে। এর জবাব দিতে পারবেন নিয়োগ কমিটির চেয়ারম্যান”।

তবে ভেরিফিকেশন ও নিয়োগ শুরু হবার আগেই; এই ধরণের অভিযোগ মনে হয় রাজ্যে এই প্রথম। তবে নাম, বাবার নাম ও মার্কস যা দেখা যাচ্ছে; তাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দিয়ে আশঙ্কা করছেন; তাদের আশঙ্কা খুব একটা অমূলক নয় বলেই জানাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসররা।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন