লোকসভা ভোটে অনুব্রতর বীরভূম নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন

954
লোকসভা ভোটে অনুব্রতর বীরভূম নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন/The News বাংলা
লোকসভা ভোটে অনুব্রতর বীরভূম নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন/The News বাংলা

আসানসোলের পর বীরভূম। বীরভূমেও ১০০ শতাংশ বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে বলে বুধবার জানিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন। রাজ্যে তৃতীয় দফা নির্বাচন কিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে মিটে যাওয়ার পর চতুর্থ দফায় নির্বাচন কমিশনের এখন নতুন টার্গেট বীরভূম। যে পদ্ধতিতে মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট করাতে সক্ষম হয়েছে নির্বাচন কমিশন সেই একই পন্থায় বীরভূম জেলায় ভোট করাতে চলছে কমিশন।

তবে বীরভূম জেলায় আরো কিছু বাড়তি সতর্কতা তা নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তার কারণ ইতিমধ্যেই তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল যে ভাবে হুমকি দিয়ে রেখেছে যা ভোটের দিন অনেক ক্ষেত্রেই প্রভাব ফেলতে পারে সে কারণেই নির্বাচন কমিশন পাখির চোখ করে নিয়েছে এখন বীরভূম জেলাকে। এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

আরও পড়ুনঃ সাত দিন পরেও খোঁজ নেই ভোটের নোডাল অফিসার অর্ণব রায়ের, রহস্য আরও জটিল

গত বছরের সেপ্টেম্বর মাস থেকেই বীরভূম জেলাকে নিয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনা করেছে নির্বাচন কমিশন। একই সঙ্গে অনুব্রত মণ্ডল কখনো পাচন তো কখনও নকুলদানা, বিভিন্নভাবে দলের কর্মী-সমর্থকদের উজ্জীবিত করেছেন। এমন কি ভোটের দিন সকালে মকপোলের সময় ৫০০ টি করে ভোট দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন অনুব্রত মণ্ডল। কিন্তু কমিশন তার নিজের লক্ষ্যে স্থির থেকে মুর্শিদাবাদের থেকেও আরও শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে চলেছে বীরভূম জেলায়।

তবে চতুর্থ দফায় কেবলমাত্র বীরভূম জেলাই নেই, আছে আসানসোল, আছে বহরমপুর সঙ্গে আছে নদিয়া। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর পশ্চিমবঙ্গে চতুর্থ দফা থেকেই কমিশনের কাছে রীতিমতো এক বড় চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট করানো। ইতিমধ্যেই রাজ্যে নিযুক্ত বিশেষ পর্যবেক্ষক অজয় নায়েক জানিয়েছেন, আসানসোলে ১০০ শতাংশ বুথেই থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। এবার জানালেন বীরভূমেও ১০০ শতাংশ বুথেই থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী।

অর্ণব উধাও রহস্যে আরও পড়ুনঃ ভোটের দায়িত্বে থাকা অর্ণব রায়ের উধাও হওয়া ফিরিয়ে এনেছে রাজকুমার রায়ের স্মৃতি

পাশাপাশি রাজ্যে নিযুক্ত বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক বিবেক দুবে জানিয়েছেন চতুর্থ দফা নির্বাচনে প্রায় ১০০% বুথেই থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। বিরোধীদের অভিযোগ এর পরিপ্রেক্ষিতেই কেবলমাত্র যে এই সিদ্ধান্ত, তা নয় বলেই নির্বাচন কমিশন জানাচ্ছে। সূত্রের খবর, বিগত দিনের নির্বাচনগুলিতে চতুর্থ দফার এই জেলাগুলিতে যে সন্ত্রাস হয়েছিল তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য আছে কমিশনের কাছে।

সেই কারণে নির্বাচন কমিশন দুর্গা পুজোর আগে থেকেই লোকসভা নির্বাচনের কর্মকাণ্ড এবং প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছিল। যার ফলস্বরূপ তৃতীয় দফা নির্বাচন মোটের ওপর শান্তিপূর্ণ ভাবেই হয়েছে। তবে তৃতীয় ধাপ পেরিয়ে গেলেও এখন নির্বাচন কমিশনের কপালে ভাঁজ পড়েছে বাকি দফা গুলির নির্বাচন সুষ্ঠু অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করানো নিয়ে।

আরও পড়ুনঃ ক্ষমা চেয়েও আবার এক ভুল, রাহুলকে আদালত অবমাননার নোটিশ ধরাল সুপ্রিম কোর্ট

যার মধ্যে বীরভূম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, উত্তর ২৪ পরগনা, আসানসোল এবং উত্তর কলকাতা। এই জেলাগুলোয় ভোট করানো যে রীতিমত কমিশনের কাছে একটা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে চলেছে তা এককথায় স্বীকার করে নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তার কারণ অতীতের যে রেকর্ড সেই রেকর্ড কিন্তু ২০১৯ এর লোকসভা নির্বাচনে একটা বড় ছাপ ফেলতে পারে তা বুঝতে পেরেই আগেভাগে সবদিক থেকে ঘর গোছাতে এখন তৎপর হয়ে উঠেছে নির্বাচন কমিশন।

আরও পড়ুনঃ ভোটের মধ্যেই মমতার সিনেমা আটকে দিল নির্বাচন কমিশন

রাজ্যের প্রথম তিনটি দফা ভোটের পর আর কোনো খামতি রাখতে চাইছে না কমিশন পরের দফাগুলি থেকে। এখন দেখার বিষয় মুর্শিদাবাদের পর বাকি দফাগুলোতে কমিশন শান্তিপূর্ণভাবে ভোট করাতে সক্ষম হয় নাকি পাচন আর নকুলদানা খেয়েই ক্ষান্ত থাকতে হয় কমিশনকে। তবে অনুব্রতকে সামলাতে যে কমিশন বিশেষ ব্যবস্থা নিচ্ছে সেটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

আপনার মোবাইলে বা কম্পিউটারে The News বাংলা পড়তে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।

Please follow and like us:
error

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন