আপনার চেনা বিখ্যাত বাঙালিরাও প্রেতচর্চা করতেন

474
প্রেতচর্চা ও বিখ্যাত বাঙালি/The News বাংলা
প্রেতচর্চা ও বিখ্যাত বাঙালি/The News বাংলা
Simple Custom Content Adder

পরলোক বা প্রেতচর্চা নিয়ে শুধু মুনি-ঋষিরাই নন, বেঙ্গল রেনেসাঁ যুগে প্যারাসাইকোলজি নিয়ে চর্চা বিখ্যাত বাঙালিদের একটা বড় অংশ করতেন বলে জানা যায়। পন্ডিত হরিদাস বিদ্যাবিনোদ তাঁর “পরলোক” (নবপত্র প্রকাশন, আইএসআই লাইব্রেরিতে পাওয়া যাবে) গ্রন্থে লিখেছেন, একটা সময় ব্যারিস্টার দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ পরলোক সংক্রান্ত বিষয় ও প্রেতচর্চা নিয়ে মেতে থাকতেন।

আরও পড়ুনঃ লাইফ বিয়ন্ড ডেথ’, কী ভাবে জানবেন মৃত্যুর পর কী

কখনও পুরুলিয়া, কখনও কলকাতার রসা রোডে তাঁর বাড়িতে দেশবন্ধু প্লানচেট বা “আত্মা আনয়ন” চক্রের বৈঠক আয়োজন করতেন। শোনা যায়, নাটোরের রাজা, জগদীন্দ্রনাথ রায়ও যোগ দিতেন ওই বৈঠকে। আর বাড়ির কৌতূহলী ছোটরা ঘরের বন্ধ দরজায় কান পেতে আত্মার আগমন উপলব্ধি করার চেষ্টা করতো।

প্রেতচর্চা ও বিখ্যাত বাঙালি/The News বাংলা
প্রেতচর্চা ও বিখ্যাত বাঙালি/The News বাংলা

শোনা যায়, একদিন আলিপুর মামলা নিয়ে ব্রাহ্মবান্ধব উপাধ্যায়ের আত্মাকে প্ল্যানচেটের মাধ্যমে নামিয়ে আনলেন দেশবন্ধু। আত্মা পেন্সিল দিয়ে বারবার একটি কথাই লিখতে লাগল, “ইউ মাস্ট ডিফেন্ড অরবিন্দ”। আলিপুর মামলা তখনও দেশবন্ধুর হাতে ছিল না। ওই ঘটনার কিছুদিন পর হঠাৎ মামলাটি হাতে আসে ওঁর। দেশবন্ধু ঋষি অরবিন্দর হয়ে মামলা লড়েন। বাকিটা তো ইতিহাস।

আরও পড়ুনঃ নেতাদের গুন্ডা পোষা না গুন্ডাদের নেতা হওয়া, প্রকাশ্যে বন্দুকবাজির কারন কি

“দ্য আদার সাইড অব ডেথ” উপন্যাসে লেখক জ্যন প্রাইস লিখেছেন, ‘অন্য দিকে’ একটি শান্তিপূর্ণ আশ্রয় যেখানে সবকিছু হালকা এবং সুন্দর হয়ে যায়। যাঁরা এটি অনুভব করেন, তাঁরা সাধারণ জীবনে ফিরে আসার পর প্রায়ই স্বাভাবিক জীবনযাত্রার সাথে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে পারেন না। তাঁরা সমাজকে সাহায্য করতে বা পার্থিব অভিজ্ঞতা ত্যাগ করতে পছন্দ করেন।

সজনীকান্ত দাশের কথা বলতে গিয়ে, হরিদাস বিদ্যাবিনোদ লিখেছেন, “স্থান: মালদহ ইংরেজবাজারের কলতলা অঞ্চল। শনিবারের চিঠির সম্পাদক সজনীকান্ত দাশের মেজদা গুরুতর অসুস্থ। পালা করে সেবা করছেন পরিবারের সবাই। সজনীকান্তকে একরকম ঘুম থেকে তুলে তাঁর মেজদার পাশে বসিয়ে ওঁর বাবা ছাদে গেলেন।

কিছুক্ষণ পর ছাদ থেকে নেমে এসে বললেন, “আজই সব শেষ হয়ে যাবে”। শেষ রাতে মেজছেলের মাথার কাছে লাল আলো দেখতে পেলেন সজনীকান্তের বাবা। বিছানা থেকে উঠে বসে, তাঁর মেজছেলে বলল, “আমি যাচ্ছি “। পরের দিন দুপুরের আগেই সজনীকান্তের মেজদা মারা যান।

তাঁর “পরলোক” বইতে হরিদাস বিদ্যাবিনোদ আরও অনেক বিখ্যাত বাঙালির কথা লিখেছেন। যেমন সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কথা। অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্তর কথা। লিখেছেন, প্রথমা স্ত্রী মোহিনীর মৃত্যুর পর বঙ্কিমচন্দ্র বিয়ে করেন রাজলক্ষ্মীকে। পরিণত বয়সে রাজলক্ষ্মীর মধ্যেই তিনি মোহিনীকে দেখতে পেতেন। আত্মীয় সুরেন্দ্রনাথ মুখার্জিকে বলেছিলেন, “তোর সেজদিকে দেখেছি রে। আমিও এবার তাঁর কাছে যাব। সময় হয়ে গেছে”।

লিখলেন, শান্তনু সরস্বতী
আপনার মোবাইলে বা কম্পিউটারে The News বাংলা পড়তে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।

পড়ুন হাড় হিম করা অদ্ভুত সত্য গল্প
পড়ুন প্রথম পর্বঃ পৃথিবী এগোলেও তান্ত্রিকের কালো জাদু টোনায় ডুবে আফ্রিকা
পড়ুন দ্বিতীয় পর্বঃ পৃথিবী এগোলেও তান্ত্রিকের কালো জাদু টোনায় ডুবে আফ্রিকা
পড়ুন তৃতীয় ও শেষ পর্বঃ পৃথিবী এগোলেও তান্ত্রিকের কালো জাদু টোনায় ডুবে আফ্রিকা

আপনার মোবাইলে বা কম্পিউটারে The News বাংলা পড়তে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।

Comments

comments

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন