তৃণমূলের বোকামিতে বাংলার ফিল্ম সিরিয়াল পরিচালকদের মাথায় হাত

981
তৃণমূলের বোকামিতে বাংলার ফিল্ম সিরিয়াল পরিচালকদের মাথায় হাত/The News বাংলা
তৃণমূলের বোকামিতে বাংলার ফিল্ম সিরিয়াল পরিচালকদের মাথায় হাত/The News বাংলা
Simple Custom Content Adder

তৃণমূলের হয়ে ভোট প্রচারে অংশ নিয়ে বিতর্কে দুই বাংলাদেশী অভিনেতা। ফিরদৌস ও গাজী নূর। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক ফিরদৌস এর বাণিজ্য ভিসা বাতিল করে তাঁকে কালো তালিকাভুক্ত করে দেয়। গাজী নূরের ভিসার মেয়াদ এমনিতেই শেষ হয়ে গেছে। দুই অভিনেতাকেই ভারত ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর এতেই ঘোর বিপদে পরে গেছেন বাংলার ফিল্ম ও সিরিয়াল পরিচালকরা।

আরও পড়ুনঃ পয়সা দিয়ে আনা হয় সেলিব্রিটিদের, বিদেশি অভিনেতা প্রসঙ্গে বেফাঁস কল্যাণ

চলচ্চিত্র অভিনেতা হিসেবে দুই বাংলায় জোড়া খ্যাতি রয়েছে ফিরদৌসের। সিনেমার কাজে প্রায়ই আসেন কলকাতায়, এখানকারই বাসিন্দা হয়ে গেছেন প্রায়। কিন্তু একজন বিদেশী হয়ে ভারতের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করেই বিপদে পরে গেলেন। সৌজন্যে তৃণমূল কংগ্রেস। বিস্তর বিতর্ক ও অভিযোগের পর ফিরদৌসকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দেয় ভারত সরকার। আর তারপরেই এই অভিনেতাকে কালো তালিকাভুক্ত করে দেয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দফতর। অর্থাৎ আপাতত তিনি ভারতে ঢোকার ভিসাই পাবেন না।

আরও পড়ুনঃ তৃণমূলের হয়ে প্রচার করে ভারতের কালো তালিকায় বাংলাদেশী অভিনেতা ফিরদৌস

ভোট প্রচারে বড়সড় চমক দেয় তৃণমূলের। রায়গঞ্জে তৃণমূলের ভোট প্রচারে অংশ নেন বাংলাদেশের বিখ্যাত নায়ক ফিরদৌস। তৃণমূলের তরফে এটাকে চমক বলা হলেও বিদেশী নাগরিক কিভাবে ভারতের ভোট প্রচারে অংশ নিচ্ছেন, সেই বিষয়ে প্রশ্ন তুলে সরব হয়েছিল বিরোধীরা। তারপরই এই নিয়ে খোঁজখবর নেওয়া শুরু করে মোদী সরকার। খতিয়ে দেখা হয় বাংলাদেশী নায়ক ফিরদৌস এর ভিসার অনুমতিপত্র। তারপরেই তাঁর বাণিজ্য ভিসা বাতিল করে তাঁকে কালো তালিকাভুক্ত করে সরকার।

আরও পড়ুনঃ তৃণমূলের প্রচার করায় ফেরদৌসকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের

আর এর জেরেই মাথায় হাত বেশ কিছু ফিল্মের পরিচালকদের। টলিউড সূত্রে জানা গেছে অন্তত ৩টি বাংলা ছবিতে ফিরদৌসকে নিয়ে শুটিং শুরু হয়েছে। সেই ফিল্মগুলিতে এখন ফিরদৌসের বিকল্প খুঁজতে হবে। পুরো শুটিং বাতিল হয়ে গেল, কারণ ভারতের কালো তালিকাভুক্ত হওয়ায় কবে এবার তিনি ভারতে ঢোকার ভিসা পাবেন, তা কেউই জানেন না। তৃণমূলের বোকামিতে ফিল্ম পরিচালকদের মাথায় হাত।

আরও পড়ুনঃ ফিরদৌসের পর গাজী নূরকে বাংলাদেশ ফেরত পাঠাল ভারত সরকার

একই সমস্যা গাজী নূরকে নিয়েও। গাজী নূরের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, গত ১২ই এপ্রিল কামারহাটিতে তৃণমূল নেতা মদন মিত্রের আমন্ত্রনে দমদম লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী সৌগত রায়ের হয়ে প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন। নির্বাচনী প্রচারের ভিডিওটি মদন মিত্র সামাজিক মাধ্যমে পোস্টও করেছিলেন। দু ঘন্টার সেই ভিডিওই বিপদে ফেলে দিল গাজীকে। সৌজন্যে তৃণমূল নেতা মদন মিত্র।

আরও পড়ুনঃ রিভালবার নিয়ে বুথে ঢুকে ভোট দেওয়ায় সঞ্জয় দত্তকে শোকজ করল নির্বাচন কমিশন

ফিরদৌসের পর একই অভিযোগে বিপদে পড়ে যান অভিনেতা গাজী নূরও। গাজী নূর বাংলা টেলিভিশনের জনপ্রিয় ধারাবাহিক রানী রাসমনিতে রাজা রাজচন্দ্রের চরিত্রে অভিনয় করছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধেও তৃণমূলের হয়ে প্রচারে অংশ নেবার অভিযোগ নিয়ে নির্বাচন কমিশনে গিয়েছিল বিজেপি। আর আজ নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে তিনিও ভারতের কালো তালিকায় চলে গেলেন। তাঁকেও ভারত ছাড়ার নির্দেশ দিল সরকার।

আরও পড়ুনঃ চোপড়া বাস স্টান্ডে বাইক বাহিনীর হাতে আক্রান্ত ভোটাররা

আর এর জেরেই মাথায় হাত রানী রাসমনি সিরিয়ালের কর্তাদের। সিরিয়ালের মাঝপথে এবার কি হবে? তবে কিছুটা হলেও বেঁচে গেছেন রানী রাসমনি সিরিয়ালের পরিচালক ও প্রযোজকরা। কারণ এই সিরিয়ালে গাজী নূরের কাজ শেষ। শুধু কিছু ডাবিং এর কাজ বাকি। দুই ক্ষেত্রেই তৃণমূলের বোকামিতে সমস্যায় পড়তে হল বাংলাদেশী অভিনেতাদের। টালিগঞ্জে আপাতত কেরিয়ার শেষ পড়শি দেশের দুই অভিনেতার। আপাতত এই দুই অভিনেতারই ভারতে ঢোকার সম্ভাবনা শেষ। সৌজন্যে তৃণমূলের বোকামি।

আরও পড়ুনঃ তৃণমূলের প্রচারে ফিরদৌস, মমতার সঙ্গে জামাত জঙ্গি যোগের অভিযোগ রাহুলের

আপনার মোবাইলে বা কম্পিউটারে The News বাংলা পড়তে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।

Comments

comments

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন