রায়গঞ্জ মুর্শিদাবাদ সিপিএম কে ছেড়ে বাংলায় আসন রফা কংগ্রেসের

214
রায়গঞ্জ মুর্শিদাবাদ সিপিএম কে ছেড়ে বাংলায় আসন রফা কংগ্রেসের/The News বাংলা
রায়গঞ্জ মুর্শিদাবাদ সিপিএম কে ছেড়ে বাংলায় আসন রফা কংগ্রেসের/The News বাংলা
Simple Custom Content Adder

রাহুলের নির্দেশে নতি স্বীকার বঙ্গ কংগ্রেসের। নিজেদের গড় রায়গঞ্জ মুর্শিদাবাদ সিপিএম কে ছেড়ে বাংলায় আসন রফা কংগ্রেসের। আবার কি ভুল করল কংগ্রেস? রাজনৈতিক মহলে উঠেছে প্রশ্ন।

অনেক দোলাচলের পর রাজ্যে আসনরফা করল সিপিএম ও কংগ্রেস। ২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে সিপিএম ২টি ও কংগ্রেস ৪টি আসন দখল করে। কিন্তু সিপিএমের জেতা দুটি আসনে কংগ্রেস এবার তাদের প্রার্থী দাবি করায় যাবতীয় সমস্যার সূত্রপাত হয়।

আরও পড়ুনঃ মুকুল রায়কে বাড়িতে ডেকে বৈঠক করে মমতার শাস্তির মুখে সব্যসাচী

২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে সিপিএমের মহম্মদ সেলিম রায়গঞ্জ আসনটি জেতেন ১৪০০ এর কিছু বেশি ভোটে। মুর্শিদাবাদে সিপিএমের হয়ে আসনটি জেতেন বদরুদ্দোজা খান ১৮ হাজারের কিছু বেশি ভোটে। স্বাভাবিকভাবেই এই দুটি আসন ছেড়ে দিলে সিপিএম সমর্থকদের কাছে আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরবে, সেই সম্ভাবনা থেকেই সিপিএম প্রথমে জোটের রাস্তা বয়কট করে।

আরও পড়ুনঃ মোদীর উদ্বোধন করা সার্কিট বেঞ্চের ফের উদ্বোধন মমতার

কিন্তু কংগ্রেস দাবি করে, ওই আসন দুটিতে তারা যথেষ্ঠ আত্মবিশ্বাসী। মুর্শিদাবাদে কংগ্রেস বেশ শক্তিশালী হওয়ায় অধীর ঘনিষ্ট আবু হেনাকে মুর্শিদাবাদ লোকসভা আসনে প্রার্থী করার কথা ভাবা হয়। এদিকে রায়গঞ্জ আসনে প্রয়াত কংগ্রেস নেতা প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সির পত্নী দীপা দাশমুন্সি সহানুভূতির হাওয়ায় আসনটি জিততে পারেন বলে আশাবাদী ছিল প্রদেশ কংগ্রেস। কিন্তু স্বাভাবিকভাবেই সিপিএম কংগ্রেসের এই দাবি মতো এই জেতা দুই আসন হাতছাড়া করতে রাজি হয়নি।

আরও পড়ুনঃ বিধাননগরের মেয়র সব্যসাচীর বাড়িতে মুকুল, জল্পনা তুঙ্গে

এদিকে এই মুহূর্তে রাজ্যে যেভাবে বিজেপির হাওয়া বইছে, তাতে সিপিএম ও কংগ্রেসের জোট না হলে তাদের ভোটের অংশে থাবা বসাবে বিজেপি, তা বিলক্ষণ জানে দুটি দলই। সেক্ষেত্রে জোট না হলে একটিও আসনে তাদের পক্ষে জেতা সম্ভব কিনা, তা নিয়ে দুটি দলের নেতারা নিজেরাই দ্বিধাগ্রস্ত।

উভয়ের স্বার্থের কথা মাথায় রেখেই রাজ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত কংগ্রেস সভাপতি গৌরব গগৈ হাল ধরেন। তিনি রাজ্যের কংগ্রেস নেতাদের জিজ্ঞেস করেন, একা লড়ে কংগ্রেস ৪ থেকে ৬টি আসন জিততে পারবেন কিনা। কিন্তু তাতে রাজ্যের নেতাদের মুখে ইতিবাচক উত্তর পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুনঃ কংগ্রেস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বদল করত আমরা ঘরে ঢুকে মেরেছি, বললেন মোদী

এদিকে রাতে রাহুল গান্ধীর সাথে সীতারাম ইয়েচুরির কথোপকথন হয়। সীতারাম ইয়েচুরি জানিয়ে দেন, কংগ্রেস ও সিপিএমের জেতা মোট ৬টি আসনে কেউ কারো বিরুদ্ধে প্রার্থী দেবে না। এটা মেনে নিলেই জোটের পথ খুলতে পারে।

আরও পড়ুনঃ শহর কলকাতায় ১০০০ কেজি বিস্ফোরক উদ্ধার

অবশেষে রাহুল গান্ধীর হস্তক্ষেপে ৬টি আসন বাদ দিয়ে বাকি আসনগুলোয় দুই পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে আসনরফার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ফর্মুলা মেনে নিলে কংগ্রেস রাজ্যে ১৭টি এবং বামেরা ২৫টি আসনে লড়তে পারে বলে কংগ্রেসের তরফ থেকে জানানো হয়েছে।

তবে এর ফলে রায়গঞ্জ এর দীপা দাশমুন্সি ও মুর্শিদাবাদ এর অধীর চৌধুরি কি সিদ্ধান্ত নেন, সেটাই এখন দেখার। তবে কংগ্রেস যে ভাঙতে চলেছে তা কিন্তু পরিষ্কার, বলছে রাজনৈতিক মহল।

আপনার মোবাইলে বা কম্পিউটারে The News বাংলা পড়তে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।

Comments

comments

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন